জঙ্গি যোগ ও হানিট্র্যাপে বড় মোড়! এনআইএ-র ম্যারাথন জেরা, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

জঙ্গি যোগ এবং হানিট্র্যাপ চক্রের চাঞ্চল্যকর তদন্তে এবার আরও বেশি সক্রিয় ও आक्रामक ভূমিকা নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর অংশ হিসেবে, এই মামলার অন্যতম ধৃত অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বান্ধবী হিসেবে পরিচিত অর্পিতাকে সোমবার দীর্ঘক্ষণ ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন এনআইএ-র শীর্ষ তদন্তকারী আধিকারিকরা। গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য ছিল, এই দু’জনের মাধ্যমে পরিচালিত জঙ্গি সংগঠনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, গোপন যোগাযোগের বিপজ্জনক পদ্ধতি এবং এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা মূল মাথাদের সম্পর্কে গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।

এর আগে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ (STF) অত্যন্ত কঠোর হাতে হামিম মণ্ডল এবং অর্পিতার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন তথা ইউএপিএ (UAPA)-র বিভিন্ন ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করেছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জোরালো দাবি, প্রাথমিক তদন্তের স্তর থেকেই এমন একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যা সরাসরি কোনো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এদের গভীর যোগাযোগের সম্ভাবনার জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই দেশের অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

এনআইএ সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, এদিনের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে হামিম ও অর্পিতার মুখোমুখি বসিয়ে একাধিক অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে, তারা ঠিক কার বা কাদের সরাসরি নির্দেশে এই ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত, কোনো আন্তর্জাতিক বা দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের ঠিক কী ধরনের যোগসূত্র ছিল, কোন কোন অত্যাধুনিক এনক্রিপ্টেড বা সিক্রেট মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে আড়ালে জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতো এবং হামিমকে বিভিন্ন নাশকতামূলক ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ বা দায়িত্ব কারা অর্পণ করত—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপরেই নিজেদের সম্পূর্ণ ফোকাস রাখেন তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

তদন্তকারীদের দৃঢ় অনুমান, ধৃত এই আসামিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকজনের নাম খুব দ্রুত প্রকাশ্যে আসতে পারে। সেই জোরালো সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই হামিম ও অর্পিতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত আদিত্য সিংকেও খুব শীঘ্রই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে এনআইএ। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে এই আদিত্য। গোয়েন্দাদের পূর্ণ বিশ্বাস, আদিত্যকে জেরা করলে এই গোটা সিন্ডিকেট, তাদের কার্যপ্রণালী এবং জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য সমস্ত যোগসূত্রের বিষয়ে আরও অনেক অজানা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে চলে আসবে।

বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাগুলির বর্তমান প্রধান লক্ষ্য হলো, এই গভীর অপরাধমূলক চক্রের সঙ্গে আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল, তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল এবং এই গোপন নেটওয়ার্কের পরিধি ঠিক কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত—তার একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা। সেই মহৎ লক্ষ্যেই ধৃতদের সওয়াল-জওয়াবের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে বাজেটোয়াপ্ত সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি এবং বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অণুপ্রবেশ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।