বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মান গেল! ১৫ ঘণ্টার যাত্রা গিয়ে ঠেকল ২৮ ঘণ্টায়, সামান্য ভুলে মুখ পুড়ল রেলের

গালভরা প্রচারের ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের’ কুলমান এবার প্রশ্নের মুখে। একটি সামান্য ‘টেকনিক্যাল ত্রুটির’ কারণে সেমি হাইস্পিড ট্রেনটির যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হলেন এবং চালিকা সংস্থা ভারতীয় রেলের মুখ পুড়ল। সাবরমতী-গুরগাঁও বন্দে ভারত স্পেশালের নির্ধারিত ১৫ ঘণ্টার যাত্রাপথ গিয়ে দাঁড়াল ২৮ ঘণ্টার হাঁসফাঁস করা প্রাণান্তকর জার্নিতে।
মেহসানায় থমকে গেল বন্দে ভারত
সাবরমতী-গুরগাঁও বন্দে ভারত স্পেশালের নির্ধারিত পথ হলো ৮৯৮ কিমি, যা অতিক্রম করার কথা ছিল ১৫ ঘণ্টায়। কিন্তু যাত্রা শুরুর পর মাত্র ৬০ কিমি এসেই মেহসানার কাছে থামতে হয় ট্রেনটিকে।
জানা গেছে, এরপরে যাওয়ার মতো প্রযুক্তির কাজ পরবর্তী রেলপথে শেষ করা হয়নি। পশ্চিম রেলের সেই অংশে ওভারহেড বৈদ্যুতিক তারগুলি সাধারণের চেয়ে অনেক উঁচুতে (৭.৪৫ মিটার) বাঁধা রয়েছে, কারণ সেই পথ দিয়ে দ্বিগুণ উঁচুর পণ্যবাহী কন্টেনার চলাচল করে। সমস্যা হলো:
বন্দে ভারতের প্যান্টোগ্রাফ সেই উচ্চতার বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করতে পারেনি।
সাধারণ সাড়ে ৫ মিটার উচ্চতার চেয়ে অনেক উঁচুতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় ট্রেনটি এগোতে পারেনি।
১৪০০ কিমি ঘুরপথে পৌঁছতে সময় ২৮ ঘণ্টা
ট্রেনটি মেহসানায় থেমে যাওয়ার পরই টনক নড়ে রেল কর্তৃপক্ষের। এরপর একমাত্র বুদ্ধি বের হয় ট্রেনটিকে সম্পূর্ণ ঘুরপথে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া।
বন্দে ভারত ট্রেনটিকে তখন আমদাবাদ, উদয়পুর, কোটা, জয়পুর ও মথুরা ঘুরিয়ে গুরগাঁওয়ে নিয়ে আসা হয়। এই অপ্রত্যাশিত ঘুরপথে ট্রেনটিকে পেরোতে হয় প্রায় ১৪০০ কিমির বেশি পথ এবং এতে সময় লেগে যায় ২৮ ঘণ্টা।
এই ঘটনায় স্বভাবতই রেল কর্তৃপক্ষ চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, ‘টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে’ এই সমস্যা হয়েছে। যাত্রী ও অন্যান্যদের মত, “মাঠে নামার আগে দেখে নেওয়া উচিত ছিল, কোন মাঠে কত জল।” এই চরম গাফিলতি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের দ্রুতগতি এবং নির্ভরযোগ্যতার ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিল।