নব্বইয়ের দশকের বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ চুমকি চৌধুরী। অঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে ১৯৯০ সালে ‘হীরক জয়ন্তী’ ছবির মাধ্যমে রুপোলি পর্দায় পা রেখেই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। এরপর বছরের পর বছর ধরে একাধিক জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে সফলতার শিখর স্পর্শ করলেও, বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত দূরত্ব বজায় রাখছেন এই অভিনেত্রী। কেন এমন সিদ্ধান্ত? এবার তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন তিনি।
পারিশ্রমিক নিয়ে আপোষহীন অভিনেত্রী: অভিনয় থেকে দূরে থাকার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক কারণ বা ইন্ডাস্ট্রির রদবদল নয়, বরং পারিশ্রমিক নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতাকেই দায়ী করছেন চুমকি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন শিল্পী হিসেবে তিনি মনে করেন, যে কোনো কাজের একটি সম্মানজনক পারিশ্রমিক থাকা উচিত। অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, “পারিশ্রমিক নিয়ে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। কেউ প্রাপ্য পারিশ্রমিক দিতে চায় না, যা অনেক সময় অসম্মানের মনে হয়। আমার অভিজ্ঞতার একটা মূল্য আছে। সেই প্রাপ্য মূল্য না দিলে কাজ করব কেন?” সম্প্রতি একাধিক কাজের সুযোগ এলেও, পারিশ্রমিক নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রাজনীতি ও ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে মত: বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং টলিউড ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তনের আবহে চুমকির দীর্ঘ বিরতি নিয়ে নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছিল। তবে এই অভিনেত্রী সাফ জানালেন, ইন্ডাস্ট্রির বিতর্ক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁর কাজে কখনো প্রভাব ফেলেনি। তাঁর কথায়, “বাবা সবসময় শিখিয়েছেন কাজে মন দিতে। বাকি কোথায় কী ঘটছে, সেটা গুরুত্ব না দিতে। আমি এখনও সেই পথই অনুসরণ করি।”
ব্যক্তিগত জীবন ও বর্তমান সময়: পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর কন্যা হিসেবে টলিউডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগ। ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও’, ‘প্রতিদান’, ‘আলতা ফড়িং’-এর মতো জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালে তাঁর কাজ দর্শকদের মনে আজও উজ্জ্বল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ‘রোশনাই’ ধারাবাহিকে শেষবার পর্দায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বর্তমানে তিনি বিদেশ ভ্রমণ থেকে ফিরে নিজের বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছেন।
পারিশ্রমিক বা কাজের মান নিয়ে চুমকি চৌধুরীর এই অনড় অবস্থান টলিউডের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের এক যন্ত্রণার চিত্রই যেন আবারও সামনে নিয়ে এল।





