দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান। ২০২২ সালে কাতারের মরুশহরে লিওনেল মেসির রূপকথার বিশ্বজয়ের পর বিশ্ব ফুটবলে আবারও নেমেছে উৎসবের আমেজ। আজ, ১১ জুন, ২০২৬, আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠছে ফিফা বিশ্বকাপের। তবে এবারের বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি এক আবেগের বিদায়বেলা। ফুটবল বিশ্বের সুপারস্টার লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, নেইমার জুনিয়র এবং লুকা মদ্রিচের মতো কিংবদন্তিদের জন্য এটিই হতে চলেছে শেষ বিশ্বকাপ। এই বিদায়ী সুরের মাঝেই ৪৮টি দেশের লড়াই ঘিরে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত উত্তেজনা।
নতুন ফরম্যাট ও চমক
এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। এই দেশগুলোকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল রাউন্ড অফ ৩২-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। মোট ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এই মহাযুদ্ধ, যার মধ্যে আমেরিকার ১১টি, মেক্সিকোর ৩টি এবং কানাডার ২টি মাঠ প্রস্তুত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মহোৎসব
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আয়োজক তিন দেশেই একযোগে উদযাপিত হচ্ছে। আজ মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্যালারি কাঁপাতে উপস্থিত থাকবেন জে বালভিন, ড্যানি ওশান, আলেজান্দ্রো ফার্নান্দেজ, লিলা ডাউন্স এবং মানার মতো তারকারা। আমেরিকায় মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি ও ফিউচার। কানাডায় থাকবেন অ্যালানিস মরিসিটি ও মাইকেল বাবলে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন ভারতীয় অভিনেত্রী নোরা ফতেহী।
ম্যাসকট ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন
তিনটি আয়োজক দেশের ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এবারের তিনটি ম্যাসকট—কানাডার ‘ম্যাপল’ (গরু), মেক্সিকোর ‘জায়ু’ (জাগুয়ার) এবং আমেরিকার ‘ক্লাচ’ (ঈগল)। বিশ্বকাপের বলের নাম রাখা হয়েছে ‘ত্রিয়োন্দা’। ২০২২ সালের মতোই এই বলটিতে থাকছে ১৪ গ্রামের বিশেষ মাইক্রো চিপ, যা ৫০০ হার্ৎজ ক্ষমতায় বলের গতি, অবস্থান এবং ট্র্যাজেক্টরি নিখুঁতভাবে জানাতে সক্ষম।
অর্থের ঝনঝনানি
পুরস্কার মূল্যের ক্ষেত্রেও রেকর্ড গড়েছে এবারের আসর। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪৭৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। রানার্সআপ পাবে প্রায় ৩১৫ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। তৃতীয় স্থানাধিকারী দল পাবে ২৭৭ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা এবং চতুর্থ স্থান পাবে ২৫৮ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা।
২০১০ সালের বিশ্বকাপের মতো আবারও আজ উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই বছর স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবারেও স্পেনের তরুণ ব্রিগেড শক্তিশালী। তবে কি ফের স্পেনের জয়জয়কার হবে, নাকি অন্য কেউ ট্রফি ছিনিয়ে নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আগামী ৩৮ দিন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে টেলিভিশনের পর্দায়। টানটান উত্তেজনার এই মহারণ এখন ইতিহাসের দোরগোড়ায়।





