পুলিশ সেজে ২ কোটি টাকার লুট! দক্ষিণ কলকাতায় দুঃসাহসিক ডাকাতিতে তোলপাড় ব্যবসায়ী মহল

দক্ষিণ কলকাতার প্রতাপাদিত্য রোডে এক ভয়াবহ লুটের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। শুক্রবার পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রায় ২ কোটি টাকা লুঠ করে চম্পট দিল একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর থেকেই এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সেজে অন্দরমহলে হানা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ওই ব্যবসায়িক অফিসে প্রবেশ করে। তাদের কাছে পুলিশের মতো দেখতে নকল পরিচয়পত্র ছিল। অফিসে ঢুকেই তারা দাবি করে, সেখানে প্রচুর কালো টাকা জমা আছে এবং তারা সেই সূত্রেই তল্লাশিতে এসেছে। অত্যন্ত সুকৌশলে তারা অফিসের কর্মীদের বিশ্বাস অর্জন করে। এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়—কর্মীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় যাতে তারা বাইরে কাউকে খবর দিতে না পারে।

ভল্ট খুলতে বাধ্য করা হয় কর্মীদের
দুষ্কৃতীদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের চাপে শেষ পর্যন্ত অফিসের কর্মীরা ভল্ট খুলতে বাধ্য হন। সেখান থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা লুট করে তারা দ্রুত এলাকা ছাড়ে। পুরো বিষয়টি এতটাই পেশাদার কায়দায় ঘটানো হয়েছিল যে উপস্থিত কেউই প্রথমে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তারা লুটের কবলে পড়েছেন। দুষ্কৃতীরা বেরিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা হয়। তখন জানা যায়, পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো তল্লাশি অভিযানের নির্দেশ ছিল না।

তদন্তে কলকাতা পুলিশ
তলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর নড়েচড়ে বসেছে লালবাজার। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই লুটের নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত ছক। অফিসের ভেতরে কত টাকা আছে বা কোথায় রাখা আছে, তা আগে থেকেই জানত দুষ্কৃতীরা। ফলে এই ঘটনায় কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ বা ‘ইনসাইডার’ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

ব্যবসায়ী মহলে এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের উর্দি বা পরিচয়পত্র ব্যবহার করে যেভাবে এই অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, তা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় ত্রুটির দিকেই আঙুল তুলছে। দোষীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম এখন তল্লাশি চালাচ্ছে।