‘রাক্ষসী’ নয়, বরং ‘শাঁকচুন্নি’ ডাকলেই খুশি! ট্রোলারদের মুখে ঝামা ঘষে জবাব দিলেন নতুন ‘দিদি’ স্বস্তিকা

বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর মঞ্চে এখন নতুন হাওয়া। দীর্ঘ দেড় দশকের পরিচিত মুখ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে এবার সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়েছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। এই পরিবর্তন যেমন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে, তেমনই নতুন সঞ্চালিকাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নেটপাড়ায় কাটাছেঁড়া। তবে সমালোচকদের কটু মন্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তাদের ‘জবাব’ দিলেন স্বস্তিকা।
‘শাঁকচুন্নি’ তকমায় আপ্লুত স্বস্তিকা!
নতুন এই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বস্তিকা লেখেন, কেউ যদি তাঁকে ‘রাক্ষসী’ বলে ডাকতে চান, তবে তার চেয়ে ‘শাঁকচুন্নি’ বললে তিনি অনেক বেশি খুশি হবেন। এমনকি নিজের পছন্দের চরিত্র ‘কদলীবালা’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি নেটিজেনদের অনুরোধ করেছেন, তাঁকে যেন এখন থেকে শাঁকচুন্নি বলেই সম্বোধন করা হয়। তাঁর এই বুদ্ধদীপ্ত ও মজার পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল।
স্বস্তিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ অনুরাগীরা
কটাক্ষের জবাবে স্বস্তিকার এই রসবোধের প্রশংসায় ভাসছেন ভক্তরা। অনেকের মতে, স্বাধীনচেতা নারীদের এই সমাজ সহজে গ্রহণ করতে পারে না, তাই এই ধরনের সমালোচনা স্বাভাবিক। আবার একদল দর্শক মনে করছেন, স্বস্তিকার সঞ্চালনায় কোনো কৃত্রিমতা নেই। তাঁর স্বাভাবিক ও সাবলীল উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করছে।
দীর্ঘ বদলের নেপথ্য কাহিনী
২০০৯ সালে শুরু হওয়া ‘দিদি নম্বর ১’-এর ইতিহাসে প্রথম সঞ্চালক ছিলেন পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়। তবে দ্বিতীয় সিজন থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর রচনার হাত ধরেই শো-টি বাঙালির আবেগ হয়ে ওঠে। মাঝে দেবশ্রী রায় ও জুন মালিয়া দায়িত্ব নিলেও, শেষ পর্যন্ত রচনার ওপরই আস্থা রেখেছিল চ্যানেল। কিন্তু ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগদানের পরই চ্যানেলের সিদ্ধান্তে আসে এই বড় পরিবর্তন।
নতুন মুখ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে ‘দিদি নম্বর ১’ এখন কতটা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার। তবে সমালোচনা যে তাঁকে দমানোর জন্য যথেষ্ট নয়, তা বুঝিয়ে দিলেন স্বস্তিকা নিজেই।