পারস্য উপসাগরে মহাযুদ্ধের দামামা! হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ইরানের, পাল্টা হামলায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। মার্কিন সেনাবাহিনী এবং ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষার দোহাই দিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর তাদের সামরিক অভিযান তীব্র করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এটি ছিল তৃতীয় দফা হামলা, যেখানে ইরানের উপকূলবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, রাডার সিস্টেম, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একাধিক স্পিডবোট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
পাল্টা আক্রমণে তেহরান:
মার্কিন এই হামলার পরপরই ইরান জবাব দিয়েছে অভাবনীয় কায়দায়। তেহরান দাবি করেছে, তারা বাহরিন, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, তবুও এই পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে টালমাটাল করে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েন:
এই উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) ফের বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জলপথটি এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবুও বিশ্ব বাণিজ্যে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত:
কূটনৈতিক মহল এই সংঘাতকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক হিসেবে দেখছে। যদি এই রণক্ষেত্র দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের দাম ও বৈশ্বিক শিপিং খরচের ওপর। ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল, নতুন করে এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে তা কার্যত ভেস্তে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন বড় কোনো সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ।