পরিত্যক্ত জলাজমিই এখন টাকার খনি! মাখানা চাষে বছরে লাখ লাখ আয়ের বাম্পার সুযোগ

চাষবাস মানেই কি শুধু ধান-গম? প্রথাগত কৃষির ধারণা বদলে দিয়ে ভোজপুরের কৃষকরা এখন ভাগ্য ফেরাচ্ছেন ‘সাদা সোনা’ অর্থাৎ মাখানা চাষে। যে নিচু জমিগুলোতে বছরের অনেকটা সময় জল জমে থাকত এবং যেগুলোকে একসময় ‘অভিশাপ’ বলে মনে করা হত, এখন সেই পরিত্যক্ত জলাজমিই কৃষকদের পকেটে আনছে লাখ লাখ টাকা। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের এই অভিনব উদ্যোগ বিহারের ভোজপুর জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

ভোজপুরের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র তাদের নিজস্ব এক একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাখানা চাষ শুরু করে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলমগ্ন জমি যেখানে অন্য কোনো ফসল চাষের অযোগ্য, সেখানে মাখানা চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এই চাষে বিনিয়োগ বা উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম, কিন্তু বাজারের চাহিদা ও মুনাফার পরিমাণ আকাশচুম্বী।

মুনাফার অংক ও সম্ভাবনা:
কৃষি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, যদি এক হেক্টর জমিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাখানা চাষ করা হয়, তবে সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা করা সম্ভব। বর্তমান বাজারে মাখানার ক্রমবর্ধমান চাহিদাই কৃষকদের এই বিপুল আয়ের পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে।

প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান:
এই চাষের প্রসারে ভোজপুরে নিয়ে আসা হয়েছে মিথিলা অঞ্চলের অভিজ্ঞ শ্রমিকদের। তাঁরা স্থানীয় কৃষকদের বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ফলন সংগ্রহ এবং মাখানা প্রক্রিয়াকরণের (Processing) খুঁটিনাটি হাতেকলমে শেখাচ্ছেন। এর ফলে শুধু কৃষকরাই নয়, গ্রামীণ মহিলারাও প্রক্রিয়াকরণের কাজে যুক্ত হয়ে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় স্তরে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের দিশা।

মাখানার পাশাপাশি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এখন পানিফল চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করছে। লক্ষ্য একটাই—একই জলাজমি থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা ফসল তুলে কৃষকদের আয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া। ভোজপুরের এই মডেল এখন আধুনিক কৃষি ব্যবসার এক সফল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলমগ্নতা এখন আর কৃষকদের জন্য সমস্যা নয়, বরং এটিই হয়ে উঠেছে সমৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy