আইপিএলের মঞ্চে ফের একবার প্রমাণ হয়ে গেল কেন চেন্নাই সুপার কিংসকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক দল বলা হয়। মরসুমের শুরুটা মোটেও আশানুরূপ ছিল না। একের পর এক হার আর পয়েন্ট টেবিলের নিচের সারিতে থাকা—সব মিলিয়ে ইয়েলো আর্মির সমর্থকদের মনে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল। তার ওপর যোগ হয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপস্থিতি। দশ ম্যাচ পার হয়ে গেলেও মাঠের মাঝে এখনও দেখা মেলেনি ‘থালা’-র। সিএসকে ম্যানেজমেন্টও ধোনির ফেরার সঠিক সময় নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায়। তবে এই সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে এসে স্বমহিমায় ফিরছে চেন্নাই।
গতকালের ম্যাচে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে ঘরের মাঠে তাদের সেই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় চেন্নাইয়ের বোলিং আক্রমণের দাপটে। শুরু থেকেই দিল্লির টপ অর্ডারে ধস নামান মুকেশ চৌধুরী ও নূর আহমেদরা। দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটাররা একে একে ব্যর্থ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। কে এল রাহুল (১২), নীতিশ রানা (১৫) এবং করুণ নায়াররা (১৩) বড় রান করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। মাত্র ৬৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দিল্লি। মাঝপথে ট্রিস্টান স্টাবস্ (৩৮) ও সমীর রিজভী (৪০) ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালালেও তা বড় স্কোরের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে দিল্লি। চেন্নাইয়ের হয়ে নূর আহমেদ দুটি উইকেট নেন, আর একটি করে উইকেট পান মুকেশ চৌধুরী ও গুরজপনিত সিংরা।
১৫৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের শুরুটা ছিল বিধ্বংসী। যদিও অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় মাত্র ৬ রানে আউট হয়ে হতাশ করেন, কিন্তু অন্য প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। বিধ্বংসী মেজাজে থাকা সঞ্জু মাত্র ৫২ বলে ৮৭ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলে দিল্লির বোলারদের দিশেহারা করে দেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন কার্তিক শর্মা, যিনি ৩১ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। উর্ভিল প্যাটেলের ১৭ রানের ক্যামিও চেন্নাইয়ের জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়। মাত্র ১৮ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিএসকে।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের ৬ নম্বরে উঠে এল চেন্নাই সুপার কিংস। লিগ পর্বে তাদের হাতে রয়েছে আর মাত্র ৪টি ম্যাচ। প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে এই ৪টি ম্যাচেই জয় প্রয়োজন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। ধোনিহীন চেন্নাই কি পারবে এই জয়যাত্রা বজায় রেখে শেষ চারে জায়গা করে নিতে? সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব।





