আট মাস পর গ্রেফতার ‘পলাতক’ আমিরুল! বিমানবন্দরে গুলি উদ্ধারের সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই এবার প্রশাসনিক সক্রিয়তার বড়সড় নিদর্শন মিলল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। কলকাতা বিমানবন্দরে কার্তুজ ও ম্যাগাজিন উদ্ধারের প্রায় আট মাস পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার করা হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে কাউন্সিলার শেখ আমিরুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাতে এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ পূজালি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই সদস্যকে গ্রেফতার করে। রাজ্যে ক্ষমতার রদবদলের পরপরই শাসক শিবিরের একজন জনপ্রতিনিধির এই গ্রেফতারি ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিমানে অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল শেখ আমিরুল ইসলামের। নিয়মমাফিক তাঁর লাগেজ যখন স্ক্যানিং মেশিনে দেওয়া হয়, তখনই নিরাপত্তাকর্মীদের নজরে আসে কিছু সন্দেহজনক বস্তু। তড়িঘড়ি তল্লাশি চালিয়ে আমিরুলের ব্যাগ থেকে একটি খালি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। হাই-সিকিউরিটি জোনে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।

কেন আট মাস পর গ্রেফতারি?
তদন্তকারীদের দাবি, সেই সময় আটক হওয়ার পর আমিরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন যে, ওই আগ্নেয়াস্ত্র বা কার্তুজের জন্য তাঁর কাছে বৈধ সরকারি লাইসেন্স রয়েছে। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় পুলিশ তাঁকে নথিপত্র দেখানোর জন্য সাত দিনের সময় দেয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই সাত দিন পেরিয়ে মাস গড়িয়ে গেলেও কোনও বৈধ লাইসেন্স বা নথি তিনি জমা দিতে পারেননি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলা রুজু হওয়া সত্ত্বেও এতদিন পুলিশ তাঁকে স্পর্শ করেনি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর হঠাৎ কেন পুলিশি তৎপরতা বাড়ল, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি, আগে ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়’ থাকার কারণে পুলিশ হাত গুটিয়ে ছিল, এখন পরিস্থিতি বদলেছে।

তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বুধবার ধৃত কাউন্সিলারকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানাবে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো— ওই কার্তুজ ও ম্যাগাজিন কেন তিনি নিজের সঙ্গে রাখছিলেন এবং কেনই বা তিনি বৈধ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলেন। এর নেপথ্যে কোনও বড় ষড়যন্ত্র বা পাচারচক্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভৌগোলিকভাবে পূজালি পুরসভা বজবজ বিধানসভা এবং ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের ফল খারাপ হলেও বজবজে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। এই আবহে আমিরুলের গ্রেফতারি তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নতুন প্রশাসন অপরাধের প্রশ্নে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে, এটি তারই আগাম সংকেত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy