“TMC-র দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই নেই”-BJP-র দরজা বন্ধ হতেই বিপাকে দলবদলুরা?

সোমবার দুপুরের পর থেকেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ছবিটা। ২০৭টি আসন জিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যে গেরুয়া সরকার গড়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর এই ক্ষমতার পালাবদলের আঁচ সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে রাজপথের অটো স্ট্যান্ডগুলিতে। বেহালা থেকে ঠাকুরপুকুর, কসবা থেকে বাগবাজার—রাতারাতি অটোর মাথা থেকে উধাও ঘাসফুল, পতপত করে উড়ছে গেরুয়া নিশান। শুধু অটো নয়, ট্যাক্সি ও টোটো ইউনিয়নগুলোতেও এখন বিজেপির দাপট।

‘বেনোজল’ রুখতে কড়া বিজেপি

শহরজুড়ে যখন দলবদলের হিড়িক, ঠিক তখনই উল্টো পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবার রাত থেকেই সংগঠনের সমস্ত স্তরে জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে— আপাতত অন্য দল থেকে কাউকেই বিজেপিতে নেওয়া হবে না। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য দল থেকে নতুন করে সদস্য নেওয়ার ওপর কড়া ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করা হয়েছে। বিজেপির লক্ষ্য একটাই, শাসকের রক্তচক্ষু এড়িয়ে মানুষ যাঁদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, সেই ‘অবাঞ্ছিত’ মুখদের যেন কোনোভাবেই দলে জায়গা না দেওয়া হয়।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের যুক্তি, তৃণমূলের যে নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের তীব্র ক্ষোভ ছিল, তাঁরাই যদি রাতারাতি গেরুয়া শিবিরে ঢুকে পড়েন, তবে জনমানসে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এতে ভোটারদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে বলে মনে করছেন সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্যরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ভবিষ্যতে কী হবে তা পরে দেখা যাবে, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের দরজা সবার জন্য খোলা নয়।”

‘দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই নেই’

মঙ্গলবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তিনি সাফ জানান, যাঁরা অতীতে দুর্নীতি, হিংসা বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা চিরতরে বন্ধ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং মাদক কারবারি বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে নিজেদের দলীয় কর্মী বলে চালানোর চেষ্টা করছে। এই ধরণের ‘ভেকধারী’দের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দল।

এদিকে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য ক্রমাগত ‘চাপ’ দেওয়া হচ্ছে। যদিও বাস্তবে কলকাতা ও শহরতলীর ইউনিয়নগুলোতে যে ভাবে রাতারাতি ‘বিপ্লব’ ঘটে গিয়েছে, তা শাসক শিবিরের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। আপাতত বিজেপির এই ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ডে কতদিন দলবদলুরা আটকে থাকেন, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy