গভীর রাতে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে তাণ্ডব! বিজেপি প্রার্থীর কাছে কেঁদে ভাসালেন প্রবীণ নেতা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবার ভোট পরবর্তী হিংসার কবলে পড়লেন ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর উমানাথ মান্না। মঙ্গলবার গভীর রাতে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী ওই প্রবীণ নেতার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। তবে এই ঘটনার পর যে ছবি দেখা গেল, তা এককথায় নজিরবিহীন। বুধবার সকালে আক্রান্ত তৃণমূল নেতার বাড়িতে হাজির হন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী দীপককুমার হালদার। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে প্রবীণ নেতার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের কাছে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানালেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে একদল দুষ্কৃতী আচমকাই উমানাথবাবুর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি প্রার্থী দীপককুমার হালদার আক্রান্ত নেতার সঙ্গে দেখা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত দীপকবাবুকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রাক্তন কাউন্সিলর উমানাথ মান্না। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বিজেপি প্রার্থীকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি জানান, “দীপক যখন তৃণমূল করত সেই সময় থেকেই ওকে চিনি। ওর ভরসাতেই একসময় রাজনীতিতে আসা। আজ বিপদের দিনে ও পাশে দাঁড়িয়েছে, এটাই বড় প্রাপ্তি।”
এদিকে এই হামলার দায় ঝেড়ে ফেলে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপি প্রার্থী দীপককুমার হালদার। তিনি দাবি করেন, এই ভাঙচুরের সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই। তাঁর ভাষায়, “ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী রাতারাতি দল বদল করে গেরুয়া আবির মেখে বিজেপির নাম ব্যবহার করছে। তারাই আসলে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে বিজেপির বদনাম করার চেষ্টা করছে। বিজেপির প্রকৃত কর্মীরা কখনও এমন হিংসায় জড়ায় না।” তিনি পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন যেন রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও সজল মণ্ডল জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তাপ বেড়েছে, তেমনই দুই ভিন্ন শিবিরের নেতার এই মানবিক ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।