নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যা, আগাম জামিনের আবেদন করলেন FIR-এ নাম থাকা বিডিও প্রশান্ত বর্মণ

নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা অপহরণ ও খুনের ঘটনায় নাম জড়ানোর পরই এবার আগাম জামিন চেয়ে বারাসত জেলা আদালতের দ্বারস্থ হলেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। আদালত সূত্রে খবর, গত ১১ নভেম্বর আইনজীবী মারফত তিনি এই আবেদন করেছেন।
বিডিও-র উপর কেন অভিযোগ?
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা হত্যা মামলায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা এফআইআরে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম রয়েছে। যদিও খুনের ঘটনার সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার কথা বারবারই অস্বীকার করেছেন এই আমলা। এমনকি, ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, খুনের পর সরকারি নীলবাতি লাগানো গাড়িতে করেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ লোপাট করার চেষ্টা হয়। ফলে, খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই বিডিও’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। তবে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে এখনও কোনও আলোকপাত করেনি পুলিশ। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় রাজু ঢালি, তুফান থাপা, সজল সরকার (যিনি তৃণমূলের কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি) ও বিবেকানন্দ সরকার-সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আগাম জামিনের আবেদন:
বারাসত জেলা আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের মামলায় আগাম জামিনের জন্য গত ১১ নভেম্বর আইনজীবী মারফত আবেদন জানিয়েছেন বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। আগামী ২৬ নভেম্বর সেই আবেদনের শুনানি হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, খুনের মামলায় এফআইআর-এ নাম থাকা বিডিও প্রশান্ত বর্মণ জামিনের শুনানির দিন কি আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন? নাকি আইনজীবীর মাধ্যমেই আগাম জামিনের আবেদনের প্রক্রিয়াটি সারবেন? প্রশাসনিক ও আইনি মহলে এই নিয়ে যথেষ্ট কৌতূহল রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর সোনার গয়না চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দত্তাবাদের সোনার দোকান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যবসায়ী স্বপন কামিলাকে। পরে নিউটাউনের যাত্রাগাছি বাগজোলা খালপাড়ের ঝোপের মধ্যে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।