দিল্লিতে ফের ‘বিস্ফোরণ’! র্যাডিসন হোটেলের কাছে তীব্র শব্দে আতঙ্ক, আসল সত্য ফাঁস করল পুলিশ

লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনার দু’দিন পরই দিল্লির মহিপালপুর এলাকায় র্যাডিসন হোটেলের (Radisson Hotel) কাছে বৃহস্পতিবার সকালে ফের একটি বিস্ফোরণের শব্দ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৮ মিনিট নাগাদ ঘটলে, আতঙ্কিত স্থানীয়দের ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন এবং দিল্লি পুলিশের একটি দল।
তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তকারীরা বিস্ফোরণের তত্ত্বটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় কোনও বিস্ফোরণের চিহ্ন বা ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। আসলে একটি ডিটিসি বাসের টায়ার ফেটে বিকট শব্দ হয়, যাকে স্থানীয়রা বিস্ফোরণ ভেবে ভুল করেন।
দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরকের প্রমাণ মেলেনি। পুলিশ মনে করছে, কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি হয়তো ভুয়ো ফোন কল করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। ওই কলের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান চলছে।
লালকেল্লা বিস্ফোরণ: ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হল মূল অভিযুক্ত উমর নবির মৃত্যু
এদিকে, গত সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লার (Red Fort) কাছে ব্যস্ত রাস্তায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল অন্যতম মূল অভিযুক্ত ড. উমর উন নবি—এই তথ্যটি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় এতদিন পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় তাঁর পরিবারের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অংশের মিল পাওয়া গেছে।
পুলিশের ধারণা, আত্মঘাতী হামলাকারী উমর নবি দীপাবলির সময় ভিড়ের মধ্যে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই মডিউলটি মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপের দুটি গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল, যার মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ করত পাকিস্তানের জেএম হ্যান্ডলার উমর বিন খত্তাব। এই ঘটনায় জইশ-ই-মহম্মদের নারী শাখা ‘জমাত-উল-মুমিনাত’-এর ভারতীয় ইউনিট গঠনের অভিযোগে অভিযুক্ত ড. শাহিন শাহিদসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও অধ্যাপককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ কাশ্মীর জুড়ে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।