‘দম থাকলে ব্রিগেডে লড়ুন!’ ২১ জুলাই নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরকে চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ পালন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে লড়াই এখন চরমে। একদিকে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার জন্য মরিয়া কালীঘাট তৃণমূল ও বিদ্রোহী তৃণমূল, অন্যদিকে এদের পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের উভয় শিবিরকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ ও কটাক্ষ সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০১১ সালে ব্রিগেডে সভা করেছিলেন। এ বারও চলুন না ব্রিগেডে যাই। দম থাকলে লড়ুন, কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু মনে হচ্ছে লোক আসবে না আপনাদের সঙ্গে।” তিনি আরও বলেন, “আবেদন করলেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে নিয়ে মাপজোক করতে চলে যাবেন! এই অধিকার কে দিয়েছে? অনুমতি পাওয়ার পরই রাজনৈতিক কর্মসূচি করা উচিত।” প্রাক্তন বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে তাঁর আমলের সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, তিনি আগের সরকারের সময়ে সভা করার অনুমতি পেতে বহুবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান সরকার বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে না।
ভিক্টোরিয়া হাউস ঘিরে বিতর্ক ও পুলিশি নোটিস প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশ করে তৃণমূল। কিন্তু এ বছর কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে বিধায়ক কুণাল ঘোষ, সাংসদ দোলা সেন ও নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় রবিবার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার জায়গা মাপজোক করতে গেলে বিপত্তি বাধে। ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানা ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং তাঁদের নোটিসও পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি, বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরও লালবাজারে চিঠি দিয়ে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ২১ জুলাই পালনের অনুমতি চেয়েছে।
পালটা যুক্তি তৃণমূলের দুই শিবিরের ব্রিগেডে সভা করার চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ বলেন, “২১ জুলাই ব্রিগেডে সভা করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। ২০১১ সালেও ব্রিগেডেই সভা হয়েছিল। তবে বর্ষাকালে ব্রিগেডে সভা করার কিছু সমস্যা থাকে। তাছাড়া ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের সেই মর্মান্তিক ঘটনা ধর্মতলাতেই ঘটেছিল। বহু মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত বলেই আমরা ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই সমাবেশ করতে চাই।”
রাজ্যের মসনদ পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরের এই দুই শিবিরের রেষারেষি এখন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির স্থান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক জট তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সব মহল।