আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না! রেশন কার্ডে নাম যোগ বা বিয়োগ এবার হবে অটোমেটিক

রেশন কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষকে আর খাদ্য দপ্তরের দপ্তরে দপ্তরে চক্কর কাটতে হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগ ও রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় রেশন কার্ড ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি স্মার্ট প্রযুক্তিভিত্তিক হতে চলেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িতে নতুন সদস্যের আগমন বা পরিবারের কোনো সদস্যের প্রয়াণ—জন্ম ও মৃত্যু সনদ (Certificate) ইস্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেশন কার্ডের তালিকা অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatically) আপডেট হয়ে যাবে।
এই নতুন ও যুগান্তকারী ব্যবস্থার কাজের পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় জন্ম-মৃত্যু পোর্টালকে সরাসরি খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ বিভাগের সফটওয়্যারের সঙ্গে লিঙ্ক করা হয়েছে। এর ফলে, কোনো পরিবারে নবজাতকের জন্ম শংসাপত্র তৈরি হলেই, সেই শিশুর নাম আধার কার্ড ও অভিভাবকের তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেশন কার্ডে যুক্ত হয়ে যাবে। আবার একইভাবে, পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম রেশন কার্ড থেকে কোনো আবেদন ছাড়াই বাদ পড়ে যাবে।
দেশের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই পরিষেবা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই আধুনিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে রাজস্থান সরকার। তারা ‘শনাক্তকরণ পোর্টাল’ এবং খাদ্য বিভাগের প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। রাজস্থান ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো তাদের নিজস্ব ডেটাবেস ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে এই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালুর কাজ শুরু করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খাদ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এখানেও জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য সরাসরি রেশন কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তবে বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে, রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই ঘরে বসে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) এবং আধার ওটিপি (OTP)-র সাহায্যে ফর্ম ৪ (নাম সংযোজন) বা ফর্ম ৭ (নাম বাতিলের) আবেদন অনায়াসেই করতে পারছেন।
এই প্রযুক্তির ফলে সামগ্রিকভাবে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দুর্নীতি বা ভুয়ো রেশন কার্ডের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচবে এবং কোনো দালাল চক্রের হয়রানি ছাড়াই যোগ্য নাগরিকরা তাঁদের সঠিক খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।