তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর নথি, রামমন্দির অনুদান চুরির নেপথ্যে কি আরও বড় চক্র?

রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। এই কোটি টাকার কেলেঙ্কারির তদন্তে বড় সাফল্য পাওয়ার দাবি জানিয়েছে পুলিশ। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রমাশঙ্কর মিশ্রের ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের পাশাপাশি, এবার গোটা বিষয়টি SIT-এর কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্তে বড় সাফল্য: পুলিশি হেফাজতে থাকা রমাশঙ্কর মিশ্রের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত বহু নথি ও আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই নথিগুলি থেকে অনুদানের অর্থ ঠিক কোথায় ও কীভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তার গূঢ় রহস্য উন্মোচিত হবে। এর আগে এই মামলায় নগদ অর্থ, সোনার গয়না ও দামি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রায় ৫০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

সাদা পোশাকের নজরদারিতে কোষাধ্যক্ষ: তদন্তকারীদের আতসকাচের নিচে এবার রামমন্দির ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজ। যদিও নিজের ইস্তফার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি পুরো দায় চাপিয়েছেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর কর্মীদের ওপর। পুনেতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, “অনুদান বাক্স থেকে টাকা যারা চুরি করেছে, তারা এসবিআই কর্মী। ব্যাঙ্কের গাফিলতি ছিল।” সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনা-রূপো চুরির যে খবর ছড়াচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

SIT-এর নজরে ১৪০ জন: বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, রমাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু কোনো অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে মন্দিরের অনুদান বাক্সের চাবির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিল। এই প্রশাসনিক গাফিলতির সুযোগেই বড়সড় আর্থিক জালিয়াতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন ট্রাস্টের সদস্য, পুরোহিত ও ব্যাঙ্ক কর্মী মিলিয়ে মোট ১৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ: রামমন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে আর্থিক তছরূপের এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টও যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিস জারি করে আদালতের নজরদারিতে স্বাধীন তদন্তের আর্জি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে—এই দুর্নীতির নেপথ্যে কি আরও বড় কোনো রাঘববোয়াল জড়িত? দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে দেশবাসী।