খুনের মামলায় জেলবন্দি সিয়া, এবার অবৈধ ব্যবসার অভিযোগে বিপাকে গোয়ল পরিবার!

ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তের মধ্যেই নতুন করে আইনি জাঁতাকলে জড়াল অভিযুক্ত সিয়া গোয়লের পরিবার। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলাকালীনই এবার সিয়াদের বিরুদ্ধে উঠল অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালানো এবং ভেজাল মশলা বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বুধবার মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর একটি দল পুণের মার্কেট ইয়ার্ডে অবস্থিত সিয়াদের দোকানে হানা দিয়ে দোকানটি সিল করে দিয়েছে।

অভিযোগ ও বাজেয়াপ্ত মশলা এফডিএ সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশি অভিযানের সময় ওই দোকান থেকে প্রায় ৪ হাজার কেজি মশলা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লক্ষ টাকা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, খাদ্য সুরক্ষা আইন (Food Safety Act) লঙ্ঘন করে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল গোয়ল পরিবার। বাজেয়াপ্ত করা মশলার নমুনা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। ভেজাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হতে ল্যাব রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দোকানটি বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেতন হত্যায় কোণঠাসা গোয়ল পরিবার উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গ থেকে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দুজনেই জেলবন্দি। চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। খুনের মামলাটি ইতিমধ্যেই বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে, কারণ পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি ঠিক কে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিল।

খুনের মামলার চাপ সামলাতে না সামলাতেই ব্যবসার এই নতুন বিতর্কে গোয়ল পরিবারের সংকট এখন চরমে। স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠছে, সিয়াদের এই ব্যবসা কি দীর্ঘদিন ধরেই আইন ভেঙে চলছিল, নাকি কেতন হত্যাকাণ্ডের তদন্তই এই সত্যকে সামনে নিয়ে এল?

পরীক্ষাগারের রিপোর্ট আসার পর এই ঘটনায় আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।