দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের ‘ধর্মীয় শিক্ষা’! হায়দ্রাবাদের স্কুলে বিতর্কিত হোমওয়ার্ক ঘিরে রণক্ষেত্র

হায়দ্রাবাদের সায়দাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের একটি নির্দিষ্ট ধর্মের বিষয় নিয়ে ‘হোমওয়ার্ক’ বা বাড়ির কাজ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্কুল ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতা-কর্মী এবং পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও স্কুলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাকসেস গ্রুপ অফ এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ১৫ই জুলাই একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনামার মাধ্যমে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সায়দাবাদ শাখায় ‘মাদার টিচার’ হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ১৬ই জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে এবং ওই শিক্ষিকাকে ভবিষ্যতের জন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত শাখা থেকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতির পরিপন্থী কাজ করার কারণেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই স্কুল চত্বরের বাইরে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাঠ্যক্রমে এমন ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের কেন এই ধরনের ‘কালমা’ বা ধর্মীয় পাঠ শেখানো হচ্ছে? প্রতিষ্ঠানটির সরকারি স্বীকৃতি বাতিল, স্কুল বন্ধ এবং অধ্যক্ষের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন তাঁরা। বিক্ষোভের তীব্রতায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মী ও অভিভাবককে আটক করে।
আটক বিজেপি নেতা আন্দেলা শ্রীরামুলু যাদব স্কুলের পাঠ্যক্রমের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “দ্বিতীয় শ্রেণির নিষ্পাপ শিশুরা নিজেরাই বর্ণনা করছে ক্লাসের ভেতরে কী ঘটেছে। পাঠ্যক্রমের নামে এই ধরনের ধর্মীয় প্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর পেছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে এআইএমআইএম নেতাদের যোগসাজশ থাকতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী তথা বিজেপি নেত্রী করুণা সাগর। স্কুল প্রাঙ্গণে এসে তিনি পুলিশের উপস্থিতিতেই কড়া প্রশ্ন তোলেন, “কেন এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হলো না? আমরা অবিলম্বে সেই অধ্যক্ষের গ্রেপ্তার দাবি করছি, যিনি ছোট বাচ্চাদের ওপর এই ধরনের বিতর্কিত বিষয় চাপিয়ে দিয়েছেন।”
ঘটনাটি ঘিরে হায়দ্রাবাদের শিক্ষাঙ্গনে এক গভীর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এমন তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি বিষয়টিকে ‘ধর্মীয় প্রচার’ হিসেবে চিহ্নিত করে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনায় প্রশাসন কী আইনি পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।