সাংবাদিকদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা! আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ

সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশন এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের জন্য তাঁদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য কোনোভাবেই সাংবাদিকদের ফৌজদারি বা মানবতাবিরোধী অপরাধের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত নয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের সময় এই দুই সাংবাদিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, আইসিটির এই নতুন অভিযোগ মূলত এই সাংবাদিকদের আটক রাখার একটি ভিন্ন আইনি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে অন্যান্য সাধারণ মামলায় জামিন পেলেও, নতুন এই অভিযোগের কারণে তাঁদের মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে নেওয়া সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সাংবাদিকতার অংশ। এই ধরনের কাজের জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি নেই। এই সংস্থাগুলোর অভিমত, সরকারের এহেন পদক্ষেপ কেবল সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের আইনি বিপাকেই ফেলছে না, বরং এটি বৃহত্তর গণমাধ্যমের ওপর এক ভীতিকর প্রভাব তৈরি করছে, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ফারজানা রূপা, মোজাম্মেল বাবু, একাত্তর টিভির শাকিল আহমেদ এবং ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত আটক অবস্থায় রয়েছেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে, গত ১১ মে হাইকোর্ট ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদকে অধিকাংশ মামলায় জামিন প্রদান করলেও, পরবর্তীকালে আপিল বিভাগ সেই জামিনাদেশ স্থগিত করে দেয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সাংবাদিকদের কাজের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের কঠোর ফৌজদারি অভিযোগ আনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বিরোধী। তারা দ্রুত এই বিতর্কিত আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের চর্চা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।