তদন্তের তথ্যপ্রমাণ কি মুছে ফেলা হয়েছে? অভয়ার বাবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে অস্বস্তিতে প্রশাসন!

আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এই ঘটনার তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ কাজ করছিল। এবার মৃতার বাবার এক বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা দাবি করে আসছেন যে, এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তথ্যপ্রমাণ বিকৃত করা হয়েছে। এর আগে একাধিক ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ এবং তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছিল। এবার একেবারে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলেছেন মৃতার বাবা।

সাংবাদিকদের সামনে অভয়ার বাবার অভিযোগ, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁর মেয়ের শরীরের ভিসেরার নমুনা (Viscera sample) নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবে যখন নমুনার পরীক্ষা চলছিল, সেই সময় প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই তথ্যপ্রমাণ ধ্বংস করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রকৃত সত্যকে ধামাচাপা দিতে এবং দোষীদের আড়াল করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ এর আগেও প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ভিসেরার নমুনা যেভাবে সংরক্ষণ বা পরীক্ষা করার কথা ছিল, তা সম্ভবত যথাযথভাবে মানা হয়নি। অভয়ার বাবার এই নতুন অভিযোগ সেই সন্দেহের আগুনে ঘি ঢালল। তিনি আরও বলেন, “যেখানে ফরেন্সিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেখানে কেন এমন গাফিলতি হল? কেন নমুনার অপব্যবহার বা ধ্বংসের প্রয়োজন পড়ল? এর পেছনে উচ্চতর প্রশাসনিক নির্দেশ ছাড়া অন্য কিছুই থাকতে পারে না।”

এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলগুলো শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে তারা রাজ্য সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিবিআই তদন্তের গতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের দাবি, এতদিন ধরে তারা যে নথি বিকৃতির কথা বলে আসছিলেন, এটি তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। তারা মনে করছেন, এই নমুনা যদি সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকত, তবে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন অনেক সহজ হত।

আর জি করের এই ঘটনা বর্তমানে দেশের অন্যতম আলোচিত মামলা। তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মায়ের এই বিস্ফোরক দাবি প্রশাসনিক স্তরে কোনো তদন্তের মুখোমুখি হবে কি না, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জল্পনা। পরিবারের প্রতিটি সদস্য এখন চাইছেন, যাতে এই নজিরবিহীন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হয় এবং যারা এর পেছনে দায়ী, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা হয়। অভয়ার বিচারের দাবিতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, তেমনই এই নতুন অভিযোগ মামলাটিকে এক জটিল মোড়ে নিয়ে এসে দাঁড় করাল।