সব্যসাচীর ‘বান্ধবী’ তকমা নিয়ে বিস্ফোরক টিনা ভৌমিক সাহা, কী বললেন তদন্ত নিয়ে?

বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি ও তাঁর বিপুল দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই তদন্তের সূত্র ধরেই সম্প্রতি নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তাঁর বাড়িতে উদ্ধার হওয়া ৩ কেজি সোনা ও সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
গত ২২শে জুন গভীর রাতে সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে বিধাননগর পুলিশের একটি দল নদিয়ার তেহট্টে টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে হানা দেয়। দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা প্রায় ৩ কেজি ওজনের বহুমূল্য সোনার গয়না উদ্ধার করেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। তদন্তকারী অফিসারদের একাংশের দাবি, সব্যসাচীর স্ত্রীর থেকেও বেশি গয়না উদ্ধার হয়েছে টিনার বাড়ি থেকে। অভিযোগ, সব্যসাচী এই গয়নাগুলি টিনাকে উপহার দিয়েছিলেন।
‘বান্ধবী’ আখ্যায় চটলেন টিনা:
সব্যসাচীর ‘বিশেষ বান্ধবী’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় সংবাদমাধ্যমের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টিনা। তিনি বলেন, “আমি কার বান্ধবী? এই বান্ধবী আখ্যা দেওয়াটা বন্ধ করুন। আপনারা তো সূত্র মারফত আমাকে বান্ধবী বলছেন, আগে ঠিক করে নিন সোনা ৩ কেজি না সাড়ে ৩ কেজি উদ্ধার হয়েছে!”
টিনার সাফাই:
নিজে একজন শিক্ষিকা এবং দায়িত্বশীল রাজনীতিক দাবি করে টিনা বলেন:
রাজনীতি ও আদর্শ: “প্রত্যেকেই রাজনীতি করেন, কারোর না কারোর আদর্শ থাকে। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে রাজনীতিতে এসেছি।”
সম্পর্কের বিতর্ক: তিনি আরও বলেন, “একজন নেতা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁর নিচের কর্মীরা ‘বান্ধবী’ হয়ে যায় না। এই জল্পনা সম্পূর্ণ ভুল এবং আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
সম্মানের লড়াই: তিনি দাবি করেন, তিনি একজন শিক্ষিকা এবং সমাজে মাথা উঁচু করে চলেন। কোনো ভিত্তিহীন সম্পর্কের তকমা দিয়ে তাঁর সম্মানহানি করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
তদন্তের মোড়:
তদন্তকারীদের দাবি, সব্যসাচী দত্ত তাঁর প্রভাব খাটিয়ে কেবল নিজেই দুর্নীতি করেননি, ঘনিষ্ঠদেরও সোনা কিনে জমা করতে সাহায্য করেছিলেন। এই পুরো দুর্নীতির নেটওয়ার্ক ভাঙতে এখন পুলিশ সব্যসাচী ও টিনার তথাকথিত সম্পর্কের নেপথ্যের আর্থিক লেনদেন খুঁটিয়ে দেখছে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। টিনা ভৌমিক সাহার এই দাবি কতটা ধোপে টেকে এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য বেরিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।