সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের চমক যতই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছানোর বিকল্প নেই। শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভরসা না করে নেতা-কর্মীদের সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করার কড়া নির্দেশ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে কর্মসূচির রূপরেখা ঠিক করতে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই রণকৌশল স্থির করেন।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে এতে অংশ নেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, বৈঠকে সামগ্রিক সাংগঠনিক বিষয়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। রাজ্যে সংগঠনকে কীভাবে আরও মজবুত করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন নীতিন নবীন।
বৈঠকে সর্বভারতীয় সভাপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। বর্তমানে রাজনৈতিক প্রচারের বড় অংশ ডিজিটাল মাধ্যমে চললেও, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুফল সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। নীতিন নবীনের মতে, ডিজিটাল পোস্টের চেয়ে ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সময়ের দাবি। তৃণমূল স্তরে পৌঁছে মানুষের সমস্যা, চাহিদা এবং প্রত্যাশা সম্পর্কে অবহিত হওয়া বিজেপির প্রতিটি কর্মীর প্রাথমিক দায়িত্ব।
শুধু কর্মীদের জন্যই নয়, রাজ্য সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের জন্যও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন নীতিন নবীন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, দলের নিচুতলার কর্মীদের অভাব-অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক সময় কর্মীরা নিজেদের সমস্যার কথা নেতৃত্বের কাছে পৌঁছাতে না পারায় সংগঠনের অন্দরে অসন্তোষ দানা বাঁধে। এই পরিস্থিতি রোধ করতে নেতৃত্বকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, প্রতিটি স্তরে কর্মীদের মতামত এবং ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন নীতিন নবীন। দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কর্মীদের মনোবল অটুট রাখা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং দলীয় কর্মসূচিতে কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই নতুন রণকৌশল রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।





