রাজ্য রাজনীতিতে এখন ধর্না-রাজনীতি নিয়ে তুঙ্গে চাপানউতোর। ভোট-পরবর্তী হিংসা ও বিজেপি সরকারের বিরোধিতার অভিযোগে রানি রাসমণি রোডে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় বসার পরিকল্পনা থাকলেও, অনুমতি মেলেনি পুলিশের থেকে। বিকল্প হিসেবে ‘ওয়াই চ্যানেল’-এ ধর্নার অনুমতি মিললেও তৃণমূল তাতে সাড়া দেয়নি। এই আবহে তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
‘জনতা প্রত্যাখ্যান করেছে’
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, বাংলার জনতা তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি বা দলের বিধায়ক-সাংসদদের হোটেলে বসে আলোচনার করার মতো অবস্থা নেই। রাস্তায় নেমে জনগণের মুখোমুখি হওয়ার মতো নৈতিক অবস্থান তৃণমূল হারিয়েছে।’’
মমতাকে ‘মরুভূমিতে’ যাওয়ার পরামর্শ শমীকের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের পরিকল্পনাকে কটাক্ষ করে শমীক বলেন, ‘‘উনি দিল্লি যেতে পারেন, আন্টার্কটিকা যেতে পারেন, এমনকি মরুভূমিতেও যেতে পারেন—তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু বাংলার মানুষ তৃণমূলকে রিজেক্ট করেছে। তৃণমূল এখন নিজেদের কর্মীদের বিরুদ্ধেই আওয়াজ তুলছে এবং একে অপরকে আক্রমণ করছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজর ঘোরানোর নাটক আর চলবে না। খেলা শেষ।’’
গণতান্ত্রিক অধিকার বনাম জনরোষ
তৃণমূলের অভিযোগ, রানি রাসমণি রোডে ধর্নায় বাধা দিয়ে তাদের ‘গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ’ করা হয়েছে। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা দাবি, কোনো রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং জনরোষের কারণেই তৃণমূলের এমন পরিণতি। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে রাস্তায় দেখলে মানুষ মেনে নেবে না, তাই মমতাকে প্রতিবাদ করতে দেবে না রাজ্যের সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে রাজ্যজুড়ে শাসকদলের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে তৃণমূল যখন বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি তখন এই পরিস্থিতিকে তৃণমূলের ‘পতন’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।





