‘ট্রেডমিলে বাজেট বানানো পাগলামি!’ মমতা ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ দিলীপের

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অন্দরে এখন ভাঙনের সুর এবং এই দলটির কার্যত আর কোনো অস্তিত্বই নেই।
তৃণমূলকে ‘শেষ’ বলে কটাক্ষ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে। এটা চলতেই থাকবে, কারণ দলটাই তো আর নেই।” প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমাকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “এতদিন তিনি অর্থমন্ত্রী ছিলেন, অথচ বাজেট সম্পর্কে কিছুই জানতেন না? বাজেট কি তাঁকে না জানিয়েই তৈরি হতো? এখন দল শেষ হওয়ার পর অন্য দিকে ভিড়ে এসব কথা বলছেন, আগে কেন মুখ খোলেননি?”
মমতার বাজেট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাজেট তৈরির পদ্ধতি নিয়েও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন তিনি ট্রেডমিলে দৌড়াতে দৌড়াতে বাজেট তৈরি করেন। ট্রেডমিলে বাজেট বানানো পাগলামি ছাড়া কিছুই নয়। আর এই অবিবেচকের মতো কাজ করার ফলেই রাজ্যের আজ এই বেহাল দশা।”
পঞ্চায়েত প্রধানদের কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়নের স্বার্থে অনুপস্থিত পঞ্চায়েত প্রধানদের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যের প্রায় ২ হাজার পঞ্চায়েত প্রধান ভোটের পর থেকে অফিসে যাচ্ছেন না। তিনি তাঁদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা হয় কাজ করুন, নাহলে পদত্যাগ করুন। এভাবে চলতে পারে না। মানুষ এখন আর ডিমের বদলে ডিম মারবে না, এবার পাথর পড়বে।”
থমকে উন্নয়ন বিজেপি নেতার অভিযোগ, তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই বহু পঞ্চায়েত নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেক জায়গায় পঞ্চায়েত বোর্ড কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও সরকারি পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তৃণমূলের প্রাক্তন শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ যে এখন আলগা হয়ে পড়েছে, দিলীপ ঘোষের আজকের বক্তব্য তারই যেন এক স্পষ্ট প্রতিফলন।