টিকিট কাটা সত্ত্বেও মিলল লোয়ার ক্লাস? ফেরত পাবেন টাকা, জেনেনিন কিভাবে?

ভারতীয় রেলের নিয়মে এমন অনেক সুযোগ-সুবিধা লুকিয়ে রয়েছে, যা সম্পর্কে সাধারণ যাত্রীদের ধারণা প্রায় নেই বললেই চলে। সাধারণত আমরা জানি, ট্রেন বাতিল হলে, টিকিট কনফার্ম না হলে কিংবা ট্রেন দীর্ঘক্ষণ লেট থাকার কারণে যাত্রা বাতিল করলে টিকিটের টাকা ফেরত (Refund) পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, ট্রেনে চেপে নিজের গন্তব্যে সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে যাওয়ার পরেও টিকিটের একটি বড় অংশ ফেরত পেতে পারেন? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। ভারতীয় রেলের এমন একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে, যার মাধ্যমে ভ্রমণ সম্পন্ন করার পরেও টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব।

কী এই নিয়ম এবং কীভাবে মিলবে টাকা?

এই বিশেষ সুবিধার মূল চাবিকাঠি হলো এলএলসি (LLC) বা ‘লোয়ার ক্লাস সার্টিফিকেট’ (Lower Class Certificate)। ধরা যাক, আপনি এসি ফার্স্ট ক্লাস বা সেকেন্ড ক্লাসের টিকিট বুক করেছেন। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পর দেখা গেল কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে আপনাকে বাধ্য হয়ে তার চেয়ে নিম্ন কোনো শ্রেণিতে (যেমন থার্ড এসি বা স্লিপার ক্লাস) ভ্রমণ করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক বা টিটিই (TTE) যাত্রীকে একটি ‘এলএলসি সার্টিফিকেট’ ইস্যু করেন। এই সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে যাত্রী তাঁর বুকিং করা ক্লাস এবং ভ্রমণ করা ক্লাসের ভাড়ার পার্থক্যের টাকা ফেরত বা রিফান্ড দাবি করতে পারেন।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা:

সম্প্রতি কর্নাটক সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেসে ঠিক এই ধরনের একটি ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ ওঠে, এসি ফার্স্ট ক্লাসের পরিবর্তে ওই ট্রেনে একটি এইচএ (HA) কোচ যুক্ত করা হয়েছিল। এই ধরনের কোচের অর্ধেক অংশ ফার্স্ট এসি এবং বাকি অর্ধেক সেকেন্ড এসি-র হয়। এর ফলে ফার্স্ট এসির টিকিট কাটা অনেক যাত্রীই তাঁদের নির্দিষ্ট আসন পাননি এবং বাধ্য হয়ে তাঁদের সেকেন্ড এসিতে ভ্রমণ করতে হয়। রেলের তরফ থেকে সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয়তা দেখিয়ে টিটিই-র মাধ্যমে ওই যাত্রীদের এলএলসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা ভাড়ার পার্থক্যের টাকা ফেরত পেয়ে যান।

শুধু এই একটি ট্রেনই নয়, দেশের যেকোনো ট্রেনে যেকোনো যাত্রীর সঙ্গেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে তিনি এই নিয়মের সুবিধা পাবেন।

রেলের অন্যান্য রিফান্ড নিয়ম একনজরে:

১) ট্রেন বাতিল হলে: ট্রেন সম্পূর্ণ বাতিল হলে যাত্রীরা পুরো টাকা ফেরত পান। অনলাইন টিকিটের ক্ষেত্রে এই টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে চলে আসে, এর জন্য আলাদা করে টিডিআর (TDR) ফাইল করতে হয় না।

২) রুট পরিবর্তন: ট্রেনের রুট ডাইভার্ট বা আংশিক বাতিল হলে টাকা ফেরত পেতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিডিআর জমা দিতে হয়।

৩) ট্রেন দীর্ঘ বিলম্বিত হলে: কোনো ট্রেন যদি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টা বা তার বেশি দেরিতে ছাড়ে এবং যাত্রী যদি সেই ট্রেনে ভ্রমণ করতে না চান, তবে চার্ট তৈরির আগে টিকিট বাতিল করলে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিডিআর দাখিল করলে সম্পূর্ণ ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়।

৪) ওয়েটিং লিস্ট: ওয়েটিং লিস্টের টিকিট চার্ট তৈরির পরেও কনফার্ম না হলে রেলের নিয়ম অনুযায়ী টাকা অ্যাকাউন্টে ফেরত চলে আসে।

তাই এবার থেকে রেল ভ্রমণের সময় বুক করা ক্লাসের চেয়ে নিচে ভ্রমণ করতে বাধ্য হলে, ট্রেন থেকে নামার আগে টিটিই-র কাছ থেকে এলএলসি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে একদম ভুলবেন না!