জয় তো এলো, কিন্তু জোট কি অটুট? রাজভবনে ইস্তফা কেন? নীতীশের ১০ম শপথের আগে বিহারের রাজনীতিতে বড় রহস্য

বিহারের রাজনীতিতে আজ ফের একবার এক ঐতিহাসিক দিন। আজ দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন নীতিশ কুমার। পাটনার গান্ধী ময়দানে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং এনডিএ-র শীর্ষ নেতৃত্ব। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক মনে হলেও, জোটের অন্দরে স্বরাষ্ট্র দফতর (Home Portfolio) এবং স্পিকারের পদ নিয়ে বিজেপি ও জেডি(ইউ)-এর মধ্যে চরম টানাপোড়েন চলছে।

এনডিএ-র বিপুল জয় সত্ত্বেও কেন এই রহস্য?

এইবারের নির্বাচনে এনডিএ জোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টি আসন জিতে বিশাল জয় পেয়েছে। বিজেপি ৮৯টি আসন নিয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে জেডি(ইউ) পেয়েছে ৮৫টি আসন। এলজেপি (আরভি), এইচএএম এবং আরএলএম-এর মতো শরিক দলগুলির সমর্থনে জোট ক্ষমতায় ফিরেছে।

বুধবার এনডিএ বিধায়ক দলের বৈঠকে নীতিশ কুমারকে সর্বসম্মতিক্রমে জোটের নেতা নির্বাচিত করা হয়। চিরাগ পাসওয়ান, উপেন্দ্র কুশওয়াহা এবং জিতন রাম মাঝির মতো নেতারা নীতিশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। মাঝি দাবি করেন, “বিশ্বে এমন নেতা হয়তো আর কেউ নেই, যিনি ২০ বছর ধরে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ছাড়া সরকার চালিয়েছেন।”

তবে এই সর্বসম্মত সমর্থনের পরেই নীতিশ কুমার রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং নতুন সরকার গঠনের দাবি জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্ত্রিসভায় আসন বণ্টন এবং স্পিকার পদ নিয়ে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে এই রাজনৈতিক কৌশল নিতে হয়েছে।

কোথায় সংঘাত? স্বরাষ্ট্র ও স্পিকার পদ নিয়ে হাই-ভোল্টেজ টানাপোড়েন

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর নিয়ে। জেডি(ইউ) এই গুরুত্বপূর্ণ দফতর ছাড়তে নারাজ, অন্যদিকে বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপি এটিকে নিজেদের কাছে রাখতে চাইছে।

একইভাবে, স্পিকার পদ নিয়েও দুই দলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত। গতবার এই পদটি বিজেপির কাছে ছিল এবং তারা এবারও তা দাবি করছে। কিন্তু জেডি(ইউ) এটিকে ক্ষমতা ভাগাভাগির সমতার অধিকার হিসেবে দেখছে। সূত্রের খবর, একাধিক বৈঠকের পরেও “শেষ মুহূর্তের বাধা” এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।