বিরল নজির! অবসর বয়সেও বিশ্রাম নয়, নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় কীভাবে তিনি পাল্টে দিচ্ছেন স্কুলের ক্লাসরুম?

বয়স ৬৫। এই বয়সে সাধারণত মানুষজন বিশ্রাম আর স্মৃতির জগতে ডুবে থাকতে ভালোবাসেন। কিন্তু পুরুলিয়া জেলার আদ্রার বাসিন্দা মদন চক্রবর্তী গড়ে তুলেছেন এক অনন্য নজির। দীর্ঘ প্রায় দু’দশক ধরে তিনি সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে সরকারি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদান করে চলেছেন। তাঁর কাছে শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি তাঁর ভালোবাসা।
একটি নয়, একাধিক স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি:
মদনবাবু শুধু একটি স্কুল নয়, কাশীপুর এলাকার একাধিক স্কুলে আজও নিয়মিত পৌঁছে যান। কখনও তিনি শেখান বাংলা, কখনও অঙ্ক, আবার কখনও সাধারণ জ্ঞান। তাঁর এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য একটাই—জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করা।
মদনবাবু জানান, “ছোটবেলা থেকেই ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়াতে আমার ভীষণ ভাল লাগত। এরপর মনে হল, যদি সত্যিই তাদের সাহায্য করতে চাই তাহলে একটি উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। আর সেটি হল একমাত্র স্কুল।”
সহকর্মীদের সমর্থন এবং ক্লাসরুমের যাত্রা:
নিজের ভাবনা থেকেই তিনি বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা এবং স্কুলের ফাঁকা সময়ে পড়ানোর অনুমতিতেই মদনবাবু এই কাজটি করতে পারছেন। ছোটবেলায় পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে তাঁকে ব্যবসা এবং টিউশন, দুটোই করতে হয়েছে। সেই সময়ই বাচ্চাদের প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসা গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সেই টিউশনের ঘর বদলে গেল স্কুলের ক্লাসরুমে।
তাঁর এই অনন্য প্রচেষ্টায় প্রতিনিয়ত পাশে থেকেছেন তাঁর স্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ছবি চক্রবর্তী। প্রতিদিন সঠিক সময়ে স্কুলে পাঠানো থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার সমস্ত দিকেই তিনি সমর্থন এবং সহায়তা করে চলেছেন। মদনবাবুর এই গল্প শুধু অনুপ্রেরণামূলকই নয়, বরং শিক্ষা এবং নিঃস্বার্থ ভালবাসার এক জীবন্ত উদাহরণ।