জম্মুতে মহাপ্রলয়! ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অমরনাথ ও বৈষ্ণোদেবী যাত্রা স্থগিত! আটকে ৬ হাজার পুণ্যার্থী!

জম্মু ও কাশ্মীরে অব্যাহত রয়েছে আবহাওয়ার এক ভয়াবহ তাণ্ডব। একটানা ভারী বর্ষণ, লাগাতার ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার জেরে উত্তর ভারতের একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ধর্মীয় তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত ও স্থগিত করা হয়েছে। আবহাওয়ার এই চরম প্রতিকূলতার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অমরনাথ যাত্রা, মাতা বৈষ্ণো দেবী যাত্রা এবং শিবখোড়ি যাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আকস্মিক এই পদক্ষেপে তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কারণ প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পাহাড়ি রাস্তাঘাটগুলো এই মুহূর্তে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে জানা গিয়েছে যে, চলমান এই দুর্যোগের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল অংশে ছয় হাজারের বেশি তীর্থযাত্রীকে নিরাপদ স্থানে আটকে রাখা হয়েছে বা নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জম্মু, কাঠুয়া, সাম্বা, উধমপুর, রামবান, বানিহাল এবং তার আশেপাশের বিভিন্ন ট্রানজিট ক্যাম্প ও লজে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী বর্তমানে অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং পাহাড়ি যাতায়াতের দুর্গম পথগুলো পুনরায় সম্পূর্ণ নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্ত তীর্থযাত্রীদের কোনোমতেই সামনে এগিয়ে না যাওয়ার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আটকে থাকা এই সমস্ত পুণ্যার্থীদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান, মানসম্মত খাবার এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী সুবিধার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, অমরনাথ যাত্রার বর্তমান পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায় যে স্থগিত হওয়ার ঠিক আগেই এই পবিত্র যাত্রাটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছিল। যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে গত মাত্র বিশ দিনের মধ্যে প্রায় ৩.৯১ লক্ষ পুণ্যার্থী দুর্গম পথ পেরিয়ে বাবা বরফানির পবিত্র দর্শন লাভ করেছেন। কিন্তু গত ১৯শে জুলাই থেকে আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় এবং লাগাতার বর্ষণের জেরে পহেলগাম এবং বালতাল—উভয় রুটেই অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। জম্মুর সুপরিচিত ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প সহ অন্যান্য সমস্ত বেস ক্যাম্পের যাত্রীদের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈষ্ণোদেবী ধামের যাত্রাও এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবের হাত থেকে রেহাই পায়নি। প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে মাতা বৈষ্ণো দেবী তীর্থযাত্রাও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বিখ্যাত অর্ধকুম্ভারী ও পবিত্র ভবনের মধ্যবর্তী নতুন চলাচলের পথে ভয়াবহ ভূমিধসের জেরে যান চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে পরিচালিত ব্যাটারিচালিত গাড়ির পরিষেবাও অনির্দিষ্টকালের জন্য বিঘ্নিত হয়েছে। বর্তমানে শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী শ্রাইন বোর্ড এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের উদ্ধারকারী দলগুলি দ্রুত গতিতে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে রাস্তাটিকে পুনরায় সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সচল করার কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

পাশাপাশি, রেয়াসি জেলার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র শিবখোরি ধামের যাত্রার উপরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একটানা বৃষ্টিপাত এবং প্রধান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার কারণে শিবখোরিতে ভক্তদের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আবহাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে এবং রাস্তাঘাট পুণ্যার্থীদের চলাচলের উপযোগী হলে তবেই এই সমস্ত স্থগিত থাকা তীর্থযাত্রাগুলি পুনরায় ধাপে ধাপে শুরু করা হবে। প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশ্যে বারবার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে যে, তাঁরা যেন কোনোভাবেই বিনা অনুমতিতে বা নিজস্ব উদ্যোগে তীর্থপথের দিকে অগ্রসর না হন এবং স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তীর্থস্থান বোর্ডের সমস্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলেন।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty