‘হিন্দুদের রেশন দেব না!’ প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্য, তুলকালাম উত্তরপ্রদেশে

উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার ভূটা থানা এলাকার কেশরপুর গ্রাম থেকে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক শোরগোল শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হওয়ার পর এই ঘটনার কথা জানাজানি হয়। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে স্থানীয় এক সরকারি রেশন ডিলারের ১৯ বছর বয়সী ছেলে আদিলের বিরুদ্ধে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা প্রয়োগ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত যুবক প্রকাশ্যে সমস্ত হিন্দু গ্রামবাসীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ঘোষণা করেছিল যে সে কাউকেই আর সরকারি রেশন তুলতে দেবে না এবং মেশিনে বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ দিতেও সাফ অস্বীকার করে। এই চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার, যখন কেশরপুর গ্রামেরই এক সাধারণ বাসিন্দা তথা প্রবীণ নাগরিক ভগবত শরণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে স্থানীয় রেশন দোকানে যান। নিয়মমাফিক তিনি মেশিনে নিজের বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গেলে রেশন বিক্রেতা ও তাঁর পরিবারের লোকজন সরাসরি তা করতে অস্বীকার করে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে ভগবত শরণ যখন সেখানে উপস্থিত রেশন ডিলারের ছেলে আদিলের কাছে যান, তখনই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ ওঠে, ডিলারের ছেলে আদিল মেজাজ হারিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, সে প্রকাশ্যে ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলে যে সে কোনো হিন্দু গ্রামবাসীকে আর রেশন দেবে না। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ক্রেতা ভগবত শরণকে আদিল ও তার এক সঙ্গী নাঈম মিলে বেধড়ক মারধর করে বলেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, পুরো ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতা দেখে দোকানে উপস্থিত এক সচেতন গ্রামবাসী পুরো বিষয়টি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিওবন্দী করে নেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপলোড হতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ভাইরাল ভিডিওটির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা অনুধাবন করে ভুটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করার পর পুলিশ আর কোনো লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে স্বতঃপ্রণোদিত বা সুয়োমোতো (Suo Motu) মামলা দায়ের করে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আদিলকে ইতিমধ্যেই নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ফরিদপুরের সার্কেল অফিসার (সিও) সন্দীপ সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে অত্যন্ত আপত্তিকর ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে ভিডিওটির কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চলছে এবং ফরেন্সিক প্রমাণের ভিত্তিতে সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতি শীঘ্রই কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

এই ঘটনায় শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসনই নয়, সমানভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগও। রেশন দোকানের বিরুদ্ধে তীব্র বিবাদ ও পুলিশি কলার খবর পাওয়া মাত্রই খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের একটি বিশেষ দল দ্রুত কেশরপুর গ্রামে পৌঁছায়। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করেন এবং অনিয়মের সত্যতা পেয়ে অবিলম্বে সরকারি রেশন দোকানটি চিরতরে সিলগালা করে দেন। একই সঙ্গে দোকানে মজুত থাকা সমস্ত সরকারি খাদ্যশস্য এবং সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জেলা সরবরাহ কর্মকর্তা মনীশ কুমার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা সাধারণ ও যোগ্য গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করবে, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তেমনই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তিও ফিরেছে।