নয়া দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে হতে পারে মেগা বৈঠক! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বড় কূটনৈতিক বার্তা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসের সদস্য বা পর্যবেক্ষক দেশ না হওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লির এই আমন্ত্রণকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই ভারতের পাঠানো এই আমন্ত্রণপত্র ঢাকায় পৌঁছে গেছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, তারেক রহমানের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা চূড়ান্ত হয়, তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ২০২৬ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে ভারত। ব্রিকসের মূল সদস্য রাষ্ট্রগুলি ছাড়াও বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে বেশ কিছু দেশকে এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার বিদেশনীতিতে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চিন সফর করেন, যা অতীতের ‘ভারত-অগ্রাধিকার’ নীতির থেকে কিছুটা আলাদা বার্তা বহন করে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বরফ গলাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

দুই নেতার সম্ভাব্য এই বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ এবং যৌথ নিরাপত্তার মতো একাধিক অতিসংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের ১১টি সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছু টানাপোড়েন তৈরি হলেও, বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কূটনৈতিক মহলের মতে, তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করে এক নতুন সহযোগিতার অধ্যায় সূচনা করতে পারে।