শ্রেয়াসের অধিনায়কত্বে প্রথম জয়! হারারেতে ফের বিধ্বংসী ইনিংস খেলতে প্রস্তুত তরুণ তুর্কি বৈভব

ভারত ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত সূচনা করে টিম ইন্ডিয়া প্রথম ম্যাচেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ভারত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। বিশেষ করে, অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য এই জয়টি অত্যন্ত স্বস্তির ও স্পেশাল ছিল, কারণ টানা সাতটি ম্যাচের হতাশাজনক অপেক্ষার পর তাঁর নেতৃত্বেই টিম ইন্ডিয়া অবশেষে জয়ের মুখ দেখল। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর ভারতীয় শিবির এখন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। পরবর্তী দুটি ম্যাচে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তরুণ ভারতীয় দল।

চলতি সপ্তাহান্তটি ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য চরম রোমাঞ্চ ও উত্তেজনার হতে চলেছে, কারণ সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ আগামী শনি ও রবিবার পরপর অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ২৫শে জুলাই হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, যা ভারতীয় সময় বিকেল ৪:৩০ মিনিটে শুরু হবে। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর, ২৬শে জুলাই সিরিজের তৃতীয় তথা অন্তিম ম্যাচটি একই ভেন্যুতে বিকেল ৪:৩০ মিনিটে মাঠে গড়াবে। এর অর্থ হলো, ক্রিকেট ভক্তরা মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতীয় দলকে দুবার মাঠে লড়াই করতে দেখবেন এবং তরুণ বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখার দ্বিগুণ সুযোগ পাবেন।

এই পুরো সিরিজে ক্রিকেটপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ এবং সবকটি স্পটলাইট নিবদ্ধ রয়েছে ভারতের তরুণ ও উদীয়মান বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশীর ওপর। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তিনি নিজের আকাশছোঁয়া প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বৈভব মাত্র ১৯ বলের মুখোমুখি হয়ে ঝোড়ো ফিফটি হাঁকান এবং খাতা খুলে মাত্র ১৮ বলেই অর্ধশতের গণ্ডি পার করেন। তাঁর এই বিধ্বংসী ও বিদ্যুৎগতি ইনিংসে সাজানো ছিল ৪টি চোখ ধাঁধানো চার এবং ৪টি প্রকাণ্ড ছক্কা। এখন শনি ও রবিবারের ডাবল হেডার ম্যাচে হারারে স্টেডিয়ামে বৈভবের ব্যাট থেকে ফের একবার চার-ছক্কার অবিরত বৃষ্টি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোটি কোটি ভক্ত।

বিশেষ করে, হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠটি তরুণ তারকা বৈভবের অত্যন্ত পছন্দের এবং এই ভেন্যুতে তাঁর ঈর্ষণীয় রেকর্ড রয়েছে। এর আগে এই একই মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেমিফাইনালে শক্তিশালী আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলে ৬৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছিলেন বৈভব। এমনকি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৭৫ রানের এক ঐতিহাসিক ও রেকর্ডভাঙা ইনিংস খেলে তিনি ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। এখন দেখার বিষয়, সিনিয়র দলের জার্সিতেও তিনি সেই একই জাদু উপহার দিয়ে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করতে কতখানি সফল হন।