আর রেহাই নেই অপরাধীদের! প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আমৃত্যু জেল ও কোটির ওপর জরিমানা? মোদী সরকারের মেগা মাস্টারস্ট্রোক

দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধ ও দুর্নীতির শেকড় পুরোপুরি সমূলে উৎপাটন করতে এবার নরেন্দ্র মোদী সরকারের পক্ষ থেকে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি নির্দেশ ও পৌরহিত্যে নয়াদিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলের খবর অনুযায়ী, ওই বিশেষ বৈঠকে দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষা করতে এবং লাখ লাখ তরুণ প্রজন্মের মেধা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বর্তমানের বিদ্যমান আইনগুলিকে আরও অনেক বেশি কঠোর ও শক্তপোক্ত করার একটি নতুন সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, অতি শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যে নতুন আইনি সংশোধনী বা খসড়া পেশ করা হতে চলেছে, তাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত অপরাধীদের জন্য অতীতের তুলনায় বহু গুণে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থার ফাঁকফোকর বন্ধ করে দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা আমৃত্যু জেলের পাশাপাশি কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ আর্থিক জরিমানার কঠোরতম বিধান এই নতুন খসড়ায় অনুমোদিত হতে পারে বলে প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়োগ দুর্নীতি এবং রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা কেলেঙ্কারির কারণে যে লাখ লাখ মেধাবী ও পরিশ্রমী চাকরিপ্রার্থী চরম মানসিক হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছিলেন, তাঁদের স্বপ্ন রক্ষা করতেই মোদী সরকার এই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করে তোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ এক যুগান্তকারী মোড় নিতে চলেছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশিকা পরীক্ষায় লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক চাপ এবং ছাত্র সমাজের লাগাতার আন্দোলনের মুখে এবার সরকার নড়েচড়ে বসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই এই গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীদের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম নমনীয় মনোভাব না দেখানোর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই আইন সংশোধনের এই প্রস্তাবটি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভারতের গোটা শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে উঠবে।