ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে ফ্রি-তে পড়ানোর প্রস্তাব, জুতোর মালা ও ডিম ছুড়ে শিক্ষককে ‘শাস্তি’ পড়ুয়াদের

রাতে ফোনে ছাত্রীকে বিরক্ত করা থেকে শুরু করে একা বাড়িতে পড়ানোর নামে কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা। যৌন হেনস্তার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের অভিযুক্ত গেস্ট লেকচারার সন্দীপ দত্তকে চরম বিক্ষোবের মুখে পড়তে হয়। ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা তাঁকে জুতোর মালা পরানো, ঝাঁটা দিয়ে মারধর এবং ডিম ছুড়ে ‘গণপিটুনি’ ও হেনস্তা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেফতার করে।
কী অভিযোগ ছিল ছাত্রীর?
অভিযুক্ত সন্দীপ দত্ত গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের ভূগোল বিভাগের গেস্ট লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক ছাত্রীকে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করতেন এবং বিভিন্ন উপায়ে তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালাতেন।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী সাহসিকতার সঙ্গে মুখ খুলে অভিযোগ জানান যে, অভিযুক্ত অধ্যাপক তাঁকে নিয়মিত ফোন করে বিরক্ত করতেন। এর পাশাপাশি, ফ্রিতে নিজের বাড়িতে একা পড়ানোর অছিলায় ‘ভালো সম্পর্ক’ গড়ে তোলার কুপ্রস্তাবও দেন তিনি। ছাত্রীটি সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানান যে, ক্লাসের পড়া তিনি ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, তাই আলাদা করে কোনো প্রাইভেট টিউশনের প্রয়োজন নেই।
ফেল করানোর হুমকি ও পুলিশের দ্বারস্থ ছাত্রী
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হতেই নিজের আসল রূপ ধারণ করে ওই অধ্যাপক। ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি বাড়িতে পড়তে না গেলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন সন্দীপ দত্ত। এই চরম মানসিক অত্যাচারের পরই ওই ছাত্রী সাহসিকতা দেখিয়ে গোবরডাঙা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পড়ুয়াদের ক্ষোভ ও গ্রেফতারি
ছাত্রীর মুখে পুরো ঘটনা শোনার পর গোটা কলেজের সিনিয়র ও জুনিয়র ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা অভিযুক্ত অধ্যাপককে কলেজ চত্বরে ঘিরে ধরে প্রবল বিক্ষোভ দেখান। তাঁকে হেনস্তা করার পাশাপাশি জুতোর মালা পরানো হয়, ঝাঁটা দিয়ে মারধর করা হয় এবং ডিম ছুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রছাত্রীরা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোবরডাঙা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে। পরে ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে সন্দীপ দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।