“১ কেজি নয়, সোজা ৪ কেজি সোনা উদ্ধার!”-পুলিশি জালে পাচারকারী, উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য

লেকটাউনের বি-ব্লক পার্কের কাছ থেকে প্রায় ৪ কেজি সোনা সহ দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল পুলিশ। টহলদারি পুলিশের সন্দেহজনক নজরে পড়ার পরই ওই দু’জনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়, আর তাতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের কাছ থেকে ২০টি সোনার বিস্কুটের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে কিছু পুরনো দিনের ১ ও ২ টাকার নোট। এই ঘটনার সঙ্গে আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক কোনো বড় সোনা পাচার চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট।
কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা?
বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার রাঠোর জানান, গত ২৩ জুলাই রাতে নিয়মিত পেট্রোলিং বা টহলদারি চলাকালীন লেকটাউন বি ব্লকের একটি পার্কের কাছে দুই ব্যক্তিকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন টহলরত পুলিশকর্মীরা। তাঁদের গতিবিধি ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতদের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তাদের কাছে থাকা ব্যাগ ও তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়:
মোট ২০টি সোনার বিস্কুট (যার মোট ওজন আনুমানিক ৪ কেজি)।
বেশ কয়েকটি পুরনো দিনের ২ টাকার নোট এবং ১ টাকার নোট।
উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা নথি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে এবং লেকটাউন থানায় নিয়ে যায়।
পুরনো অপরাধের রেকর্ড ও পাচার চক্রের সন্দেহ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দু’জনের মধ্যে অন্তত একজন ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। প্রাথমিক জেরা ও সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, ধৃতেরা এর আগেও এই অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অতীতে তারা একইভাবে ২ থেকে ২.৫ কেজি সোনা নিয়ে এই রুট দিয়ে যাতায়াত করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় সোনা পাচার চক্র বা হাওলার মতো অবৈধ লেনদেনের যোগ থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া এই সোনার আসল উৎস কোথায়, এই সোনা কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত— সেই সমস্ত জালের সন্ধান পেতে ধৃতদের লাগাতার জেরা করছে পুলিশ।