বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথের খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই পুলিশের হাতে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আততায়ীদের পালানোর রুট ম্যাপ তৈরি করতে ইতিমধ্যেই ২০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। বর্তমানে সেই ফুটেজগুলি ‘ম্যাপিং’ করার কাজ চলছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনো পেশাদার গ্যাং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ছক কষে এই অপারেশন চালিয়েছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এক মারাত্মক কৌশল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, খুনের সময় একটি চার চাকা গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল শুধুমাত্র চন্দ্রনাথের গাড়ির গতি রোধ করার জন্য। চন্দ্রনাথের গাড়িটি যখন ধীর গতিতে চলছিল, ঠিক সেই সুযোগে একটি বাইক এসে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টি করে। সেখানেই শেষ নয়, চার চাকা গাড়িতে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীকে দ্রুত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হয়েছিল অন্য একটি বাইক। অর্থাৎ, পালানোর রাস্তা আগে থেকেই তৈরি ছিল অপরাধীদের।
এদিকে, এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বুদ্ধদেবের শরীরে একাধিক জায়গায় গুলি লেগেছে। তাঁর ডান হাতের জয়েন্ট হাড়, লিভার এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে জ্ঞান ফিরলে আজই তাঁর বয়ান রেকর্ড করতে পারে পুলিশ।
এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে গর্জে উঠেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “এটি একটি ঠান্ডা মাথায় করা পূর্ব পরিকল্পিত খুন। গত দু-তিন দিন ধরে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে এলাকায় রেইকি করা হয়েছিল।” রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত নিজে এসে শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দোষীদের খুব দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “আমরা পুলিশের ওপর আস্থা রাখছি। তবে এই খুনের নেপথ্যে রাজনীতির যোগ থাকার সম্ভাবনা প্রবল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলেই অভয়ার মতো যেন বিচারহীন হয়ে না থাকে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।” আপাতত সিসিটিভি ম্যাপিং-এর ওপর ভিত্তি করেই খুনিদের নাগাল পেতে মরিয়া পুলিশ।





