প্রতি বছর বর্ষা এলেই ঘাটালের মানুষের জীবন জল-যন্ত্রণায় দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ তথা টলি তারকা দীপক অধিকারী (দেব) দীর্ঘদিন ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগকে বাস্তব রূপ দিতে রাজ্য সরকার সাড়া দিয়ে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কেন্দ্রের অসহযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে সাংসদ দেব এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সংসদের বাদল অধিবেশনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দুটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন সাংসদ দেব। প্রথমত, এই প্রকল্প রূপায়ণে কেন্দ্রীয় সরকার কেন বাজেট বরাদ্দ করল না? দ্বিতীয়ত, প্রকল্প রূপায়ণে রাজ্য সরকার কি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বা ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের মতো সংস্থার থেকে অর্থ নিতে পারবে?
দেবের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রাজ ভূষণ চৌধুরী লিখিত জবাবে জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্প রূপায়ণে যে শর্ত পূরণ করতে হয়, তা রাজ্য সরকার করেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বিনিয়োগে ছাড়পত্র পেলেও তা ২০২১ থেকে ২০২৬ – এই পাঁচ বছরের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের মাত্র ৩০০ কোটির বাজেট বরাদ্দ রয়েছে এবং শুধুমাত্র সেই রাজ্যগুলির প্রকল্প গ্রহণযোগ্য হবে, যারা ‘ফ্লাড প্লেইন জোনিং’-এর আদেশ বাস্তবায়ন করছে। এই জবাবের মাধ্যমে কেন্দ্র কার্যত প্রকল্পের দায় রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর এমন দায়সাড়া মনোভাব এবং অসহযোগিতায় সাংসদ দেব ঘনিষ্ঠ মহলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর আগেও একাধিকবার তৃণমূল সাংসদ দেবের আবেদনে কেন্দ্র সাড়া না দেওয়ায়, এই মুহূর্তে রাজ্য সরকার নিজের খরচে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। ঘাটালের মানুষের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রের এমন অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।





