ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী ১৬ এপ্রিল ২০২৬ সংসদে পেশ হতে পারে বহুপ্রতীক্ষিত ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধন) বিল’। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো— লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০টি করা। যার মধ্যে ৮১৫টি আসন আসবে রাজ্যগুলি থেকে এবং ৩৫টি আসন থাকবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য।
বিজেপির সামনে কঠিন পরীক্ষা: এই সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ (Two-Thirds) সমর্থনের প্রয়োজন। বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটের হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন। কিন্তু বিলটি পাশ করাতে গেলে আরও অন্তত ৬৯ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সূত্রের খবর, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই তেলুগু দেশম পার্টি (TDP), জেডিইউ (JDU) ছাড়াও বেশ কিছু অ-কংগ্রেসি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
কেন এই আসন বৃদ্ধি?
জনসংখ্যা ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে লোকসভার আসন সংখ্যা স্থির রয়েছে। নতুন বিল পাশ হলে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হবে।
মহিলা সংরক্ষণ: ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকরের প্রাথমিক শর্তই হলো আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ। এই বিল পাশ হলে আগামী নির্বাচনেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সাংসদ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দাক্ষিণাত্যের উদ্বেগ: দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, আসন বৃদ্ধি হলে উত্তর ভারতের হিন্দি বলয় রাজনৈতিকভাবে বেশি শক্তিশালী হয়ে পড়বে। তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, এমন এক ফর্মুলা আনা হচ্ছে যাতে কোনো রাজ্যেরই গুরুত্ব হ্রাস না পায়।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: বিরোধী শিবির বিশেষ করে কংগ্রেস ও তৃণমূলের দাবি, এটি আদতে বিজেপির একক ক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি— দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে সঠিক প্রতিনিধিত্ব দিতে লোকসভার এই সম্প্রসারণ অনিবার্য।
নতুন সংসদ ভবন ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা’ ইতিমধ্যেই ৮০০-র বেশি আসন ধারণের সক্ষমতা রাখে। এবার কেবল আইনি শীলমোহরের অপেক্ষা। ১৬ এপ্রিল সংসদে বিলটি পেশ হলে ভারতের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





