ওয়েব ক্যামেরা বিকল হলেই ফের ভোট! ২০২৬-এর নির্বাচনে বেনজির কড়াকড়ি কমিশনের, বিপাকে অসাধু চক্র?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার বুথে বুথে কারচুপি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। এবার আর কোনো ‘অজুহাত’ চলবে না। কমিশনের সাফ কথা— ভোট চলাকালীন যদি কোনো বুথের ওয়েব ক্যামেরা (Web Camera) বিকল হয় বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, তবে সেই বুথের ভোট বাতিল করা হতে পারে এবং সেখানে পুনর্নির্বাচন (Re-poll) হবে।

কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত? বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে, অনেক সময় বুথের ভেতর গণ্ডগোল চলাকালীন রহস্যজনকভাবে ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যেত। ফলে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ত। সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এবার যান্ত্রিক ত্রুটিকেও আর রেয়াত করতে চাইছে না কমিশন।

কমিশনের নতুন গাইডেলাইন একনজরে:

  • ১০০% ওয়েবকাস্টিং: এবার রাজ্যের প্রতিটি বুথেই (১০০ শতাংশ) লাইভ ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে কেবল সংবেদনশীল বুথগুলোতে এই ব্যবস্থা থাকত।

  • তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা: ক্যামেরা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে সেক্টর অফিসারকে খবর দিতে হবে। যদি ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে সংযোগ পুনরুদ্ধার না হয়, তবে প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

  • ড্রোনের ব্যবহার: ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বুথের বাইরের পরিস্থিতি বুঝতে প্রথমবারের মতো ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।

  • এআই (AI) প্রযুক্তির নজরদারি: কন্ট্রোল রুমে বসে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বুথের ভেতরের অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করা হবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সরাসরি মাইক্রো-অবজারভারদের কাছে অ্যালার্ট যাবে।

কমিশন সূত্রের বার্তা: কমিশন জানিয়েছে, “সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট করাই আমাদের লক্ষ্য। যদি ক্যামেরা বিকল হওয়ার কারণে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হয়, তবে যতবার প্রয়োজন ততবার ফের ভোট নেওয়া হবে।” ইতিমধেই পুরনো ক্যামেরা সরবরাহকারী সংস্থাকে সরিয়ে নতুন ৩টি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে যান্ত্রিক গোলযোগ ন্যূনতম হয়।

নির্বাচন কমিশনের এই ডিজিটাল ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ রাজনৈতিক দলগুলোর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বুথের ভেতর পেশ পেশশক্তি প্রদর্শন রোখাই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy