চব্বিশের সেই হাহাকার কি ফিরছে ছাব্বিশে? বৈশাখের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গে লু-এর সতর্কতা!

২০২৫ সাল তুলনামূলকভাবে শীতল কাটলেও, ২০২৬-এর বৈশাখ যেন তার পুরনো মেজাজ ফিরে পেয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে তাপমাত্রার জয়যাত্রা। আজ ১৪ এপ্রিল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ৩৯ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি? আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং পশ্চিমের শুকনো গরম বাতাসের দ্বৈরথে তৈরি হচ্ছে এক অস্বস্তিকর আবহাওয়া।

  • দক্ষিণবঙ্গের দহন: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘Hot and Humid’ অর্থাৎ গরম ও আর্দ্র জনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। আপাতত তাপপ্রবাহের সরাসরি সতর্কতা না থাকলেও, আর্দ্রতাজনিত কারণে অনুভূত তাপমাত্রা (Feel like temperature) ৪২-৪৩ ডিগ্রির মতো হতে পারে।

  • বিপরীত ছবি উত্তরবঙ্গে: দক্ষিণ যখন পুড়ছে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে কিন্তু বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণের আবহাওয়ায় এক বিশাল বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চব্বিশের পুনরাবৃত্তি কি ছাব্বিশে? ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলা যে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখেছিল, ২০২৬-এর শুরুর লক্ষণগুলি অনেকটা তেমনই। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এপ্রিলের শেষ দিকে যদি কালবৈশাখীর দেখা না মেলে, তবে দহনজ্বালা চব্বিশের রেকর্ডকেও ছুঁতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় (ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, নদীয়া) বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সতর্কতা ও করণীয়: আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদে বাইরে থাকা এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ছে। বাইরে বেরোলে সঙ্গে অবশ্যই জল ও ছাতা রাখুন।

নতুন বছরের শুরুতেই প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলা করাই এখন রাজ্যবাসীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy