ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘর। গায়ে চাদর দিয়ে শুয়েছেন, কিন্তু তবুও কানের কাছে মশার গুনগুনানি আর কামড় থেকে রেহাই নেই। অনেকেই ভাবেন, মশা হয়তো অন্ধকারেও দেখতে পায়। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, মশা আপনাকে খুঁজে পেতে চোখের চেয়ে তার ‘সেন্সর’ বা ঘ্রাণশক্তি এবং শরীরের তাপকে বেশি ব্যবহার করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মশা মূলত তিনটি বিশেষ কৌশলে মানুষকে অন্ধকারেও খুঁজে বের করে:
১. কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘ্রাণ (CO2 Sensor)
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী যখন নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, তখন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। মশার মাথায় থাকা বিশেষ সেন্সর প্রায় ৩০ থেকে ৫০ ফুট দূর থেকেই এই গ্যাসের উপস্থিতি টের পায়। আপনি যত জোরে বা বেশি নিঃশ্বাস ফেলবেন, মশা তত দ্রুত আপনার অবস্থান নিশ্চিত করবে।
২. শরীরের ঘাম ও বিশেষ গন্ধ
মশা মানুষের ঘামের মধ্যে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া এবং ইউরিক অ্যাসিডের গন্ধ খুব পছন্দ করে। আমাদের ত্বকের ওপর থাকা বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়ার গন্ধেও তারা আকৃষ্ট হয়। মজার ব্যাপার হলো, যাদের শরীরে ঘাম বেশি হয় বা যাদের গায়ের গন্ধ তীব্র, মশা তাদের দিকেই বেশি ধাবিত হয়।
৩. শরীরের তাপমাত্রা (Thermal Vision)
একবার কাছাকাছি চলে এলে মশা তার ‘থার্মাল রিসেপ্টর’ ব্যবহার করে। এটি অনেকটা নাইট ভিশন ক্যামেরার মতো কাজ করে। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতা অন্ধকার ঘরেও মশার কাছে প্রদীপের মতো উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়। এই তাপ অনুসরণ করেই সে আপনার শরীরের রক্তনালী খুঁজে বের করে কামড় দেয়।
৪. রঙের আকর্ষণ
গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ধকারেও মশা গাঢ় রঙের (যেমন কালো বা গাঢ় নীল) প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই হালকা রঙের পোশাক পরলে মশার নজরে পড়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম থাকে।
মশা তাড়ানোর ছোট টিপস:
শোওয়ার ঘরে ফ্যান চালিয়ে রাখুন; মশা হালকা ওজনের হওয়ায় দ্রুত বাতাসের বিপরীতে উড়তে পারে না।
গায়ে লেমনগ্রাস বা ইউক্যালিপটাস তেল ব্যবহার করতে পারেন, যা মশার সেন্সরকে বিভ্রান্ত করে দেয়।





