সিনেমার পর্দা নয়, খোদ বাস্তব জীবনের বিয়ের মণ্ডপ হয়ে উঠল রণক্ষেত্র। অন্ধ্রপ্রদেশের এনটিআর জেলার মাইলাভরম এলাকায় এক বিয়ে বাড়িতে যা ঘটল, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ উপস্থিত ৫০০ নিমন্ত্রিত অতিথির। ছাদনাতলায় বরের সামনেই নিজের প্রেমিকের হাত ধরে বেরিয়ে গেলেন কনে! মুহূর্তের মধ্যে বিয়ের আনন্দ বদলে গেল চরম উত্তেজনায়।
ঠিক কী ঘটেছিল? সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। সানাইয়ের সুর আর আত্মীয়স্বজনের ভিড়ে উৎসবের আমেজ ছিল তুঙ্গে। বিয়ের আচার প্রায় শেষের পথে। বর যখন কনের গলায় মঙ্গলসূত্র পরাতে যাবেন, ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই নাটকীয়ভাবে মণ্ডপে প্রবেশ করেন এক যুবক। সবার নজর তখন সেই আগন্তুকের দিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কনে বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং সোজা গিয়ে দাঁড়ান ওই যুবকের পাশে।
কনের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি: মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা এলাকা। কনে উপস্থিত সবার সামনে ঘোষণা করেন, ওই যুবকই তাঁর প্রেমিক এবং তাঁরা দীর্ঘদিনের সম্পর্কে রয়েছেন। পরিবারের চাপে তিনি এই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি তাঁর প্রেমিকের সাথেই জীবন কাটাতে চান।
২০ লাখ টাকা গচ্চা, পুলিশের হস্তক্ষেপ: এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ হারান বরের বাড়ির লোকজন। বরের পরিবারের দাবি, ধুমধাম করে এই বিয়ের আয়োজনে তাঁদের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বিয়ের মণ্ডপে শুরু হয় হাতাহাতি আর চিৎকার। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করে।
শেষ পরিণতি: শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় বিয়ে। বরের বাড়ি এবং কনেপক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাদানুবাদ চললেও কনে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। পরে গ্রামের মাতব্বরদের উপস্থিতিতে দুই পরিবারের মধ্যে একটি মীমাংসা বৈঠক করা হয়। যদিও কোনো আইনি মামলা দায়ের হয়নি, তবে এই ‘ফিল্মি’ পলায়নের খবর এখন গোটা রাজ্যে ভাইরাল।
বরের গলায় মালা না দিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে কনের প্রস্থান— এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল যে বাস্তব জীবন মাঝে মাঝে সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।





