ঘরের ভেতর অসহায় কিশোরীকে নৃশংস ধর্ষণ ও খুন! বর্বরোচিত কান্ডে শিউরে উঠল গোটা দেশ!

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ কাঁপিয়ে দিয়ে আসামের হাইলাকান্দি জেলা থেকে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক অপরাধের খবর সামনে এসেছে। নিজের বসতবাড়ির ভেতর ১৫ বছরের এক কিশোরীকে অত্যন্ত বর্বরোচিত কায়দায় ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ভয়াবহ ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ শুনে কেবল শোকার্ত পরিবারই নয়, বরং গোটা এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় গ্রামবাসীরাও রীতিমতো শিউরে উঠেছেন। অপরাধীরা অপরাধের মাত্রা এতটাই ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে, হতভাগ্য কিশোরীর নিথর দেহ দেখে ঘরের লোকজন প্রথমে তাকে ঠিকমতো চিনতেই পারেননি। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, সম্পূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার গভীর রাতে আসামের হাইলাকান্দি জেলার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে প্রকাশ পেয়েছে যে, ওই ১৫ বছর বয়সি কিশোরীকে প্রথমে ঘরের মধ্যেই অত্যন্ত পশুবিকারে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে খুন করা হয়। নরপিশাচরা এখানেই থেমে থাকেনি; নিষ্ঠুরতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে মৃত কিশোরীর যৌনাঙ্গে একটি লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ভারী কোনো ধারালো বা ভোঁতা বস্তু দিয়ে তার মুখ ও মাথা সম্পূর্ণ থেঁতলে বিকৃত করে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে কিশোরীর পরিবার বাড়ির অদূরেই বসবাসকারী এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে প্রীতিভোজে যোগ দিতে গিয়েছিল। কিশোরীও পরিবারের সঙ্গে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিল। কিন্তু সেখানে উপস্থিত কোনো এক তুতো ভাইয়ের সঙ্গে কোনো একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কিশোরীর তীব্র বচসা ও অশান্তি শুরু হয়। সেই পারিবারিক ঝামেলার পরই সকলের অজান্তে সবার আগে বাড়ি থেকে রাগ করে একাই নিজের ঘরে ফিরে আসে ওই কিশোরী। এরপর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন যখন খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়ি ফিরে আসেন, তখন তারা বাড়ির ঘরের মেঝেতে কিশোরীর রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই দৃশ্য দেখার পর মুহূর্তের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদে চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে।

খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় এবং নিথর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই ধর্ষণের এই নৃশংস অভিযোগটি সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হবে। এদিকে এই লোমহর্ষক ঘটনার খবর চাউর হতেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও গ্রামবাসীরা। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সমস্ত নরপিশাচদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে রাস্তায় নেমে পড়েন এবং নিকটবর্তী ব্যস্ত জাতীয় সড়ক আটকে দীর্ঘক্ষণ তীব্র বিক্ষোভ ও অবরোধে সামিল হন। পুলিশের আশ্বাসের পর অবরোধ উঠলেও আসামের এই নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের তীব্র প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।