মন্ত্রীর ওপর হামলার ছক বানচাল! জঙ্গি যোগে হাওড়া থেকে গ্রফতার আরও এক ভয়ঙ্কর সহযোগী!

রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে দিয়ে জঙ্গি যোগের অভিযোগে ফের বড়োসড়ো সাফল্য পেল বেঙ্গল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ব্যস্ত বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে এক কুখ্যাত সহযোগীকে পাকড়াও করেছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই একই নাশকতার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে হামিম ও অর্পিতা নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের জেরা করে এবং তাদের দেওয়া বিভিন্ন গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ এবার আদিত্য সিং ওরফে রাজু নামের এই তৃতীয় সন্দেহভাজনকে জালে তুলল। এই পরপর গ্রেফতারির ফলে গোটা রাজ্যে এবং রাজনৈতিক মহলে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার গোপন সূত্রে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা গিয়েছে যে, এই জঙ্গি চক্রের মূল নিশানায় ছিলেন খোদ রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী তথা জনতা দলের হেভিওয়েট নেতা উমেশ রাই। মন্ত্রী উমেশ রাইকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করার বা কোনো বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল এই চক্রটি। ধৃত আদিত্য সিং ওরফে রাজুই মূলত ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া হামিম এবং অর্পিতার হাতে মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের অত্যন্ত গোপনীয় এবং নির্ভুল ছবি তুলে দিয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জোরালো দাবি করেছেন। মন্ত্রীর দৈনন্দিন গতিবিধি এবং তাঁর ছবি জঙ্গিদের কাছে সরবরাহ করার পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখতে এসটিএফের শীর্ষ কর্তারা আদিত্যকে টানা জেরা শুরু করেছেন।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, ধৃত হামিম এবং অর্পিতাকে দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় ম্যারাথন জেরা করার পরই আদিত্য সিংয়ের নাম প্রকাশ্যে আসে। জেরায় পাওয়া সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ এবং তথ্যের সূত্র ধরে এসটিএফের একটি বিশেষ দল হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে আচমকা অভিযান চালায় এবং আদিত্যকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে যে, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে এবং এদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য কোনো জঙ্গি নেটওয়ার্কের গভীর যোগসাজশ থাকতে পারে। রাজ্যের একজন মন্ত্রীকে টার্গেট করার এই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। এসটিএফের গোয়েন্দারা এখন এই চক্রের বাকি মাথাদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের সমস্ত গোপন আস্তানা ধ্বংস করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন।