ইরান-মার্কিন সংঘাতের আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের অভাবনীয় ভোলবদল এখন আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার প্রধান বিষয়। একদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং অন্যদিকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন রহস্যের ঘনঘটা। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি-র (NBC) দাবি, এই পুরো নাটকের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে সৌদি আরব।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন হামলার প্রভাবে ইরানে এক গণঅভ্যুত্থান ঘটবে। সেই সময় মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওয়াশিংটন ভেবেছিল, খামেনির পতনে ইরানের শাসনকাঠামো ভেঙে পড়বে, কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। উল্টে ইরান আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। এরপর ৭ই মার্চ ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা হবে না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই অনড় অবস্থান থেকেও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এপ্রিলের শুরুতে। ৩রা এপ্রিল পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালু করেন ট্রাম্প। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের অবরোধ ভেঙে হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বিস্তার করা। কিন্তু অপারেশন শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তা স্থগিতের কথা ঘোষণা করেন। কেন এই পিছুটান? এনবিসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রবল চাপের মুখেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রকৃতপক্ষে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হতেই ফুঁসে উঠেছিল ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড’। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা শুরু করে এবং সৌদি আরবেও বিধ্বংসী হামলার প্রস্তুতি নেয়। এই অবস্থায় সৌদি আরব স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তারা তাদের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেবে না। রিয়াদের বক্তব্য ছিল পরিষ্কার—যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় দেশগুলোকেই সরাসরি তার খেসারত দিতে হবে। সৌদি আরব কার্যত ইরানকে আশ্বস্ত করে যে তারা সংঘাত নয়, বরং সমঝোতা চায়।
সৌদি আরবের এই কঠোর অবস্থানের পর ট্রাম্পের কাছে আলোচনার টেবিলে ফেরা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা ছিল না। খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার স্বার্থেই তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করছেন। যেখানে একসময় তিনি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন, সেখানে এখন আলোচনার পথে হাঁটা ট্রাম্পের কূটনৈতিক পরাজয় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।





