খামখেয়ালি বর্ষা কাটবে কি? শক্তিশালী সিস্টেমের হাত ধরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

এল নিনো (El Nino)-র প্রভাব এবং আইটিসিজেড (ITCZ)-এর অস্বাভাবিক আচরণের জেরে এই মরসুমে বর্ষার খামখেয়ালিপনা দেশজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কোথাও অনাবৃষ্টি, তো কোথাও অতিবৃষ্টি—সব মিলিয়ে চাষবাস থেকে জনজীবন বিপর্যস্ত। তবে স্বস্তির খবর শোনাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠছে ‘ইন্টারট্রপিক্যাল কনভার্জেন্স জোন’ (ITCZ), যা জুলাইয়ের শেষভাগে ভারতের আকাশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আইটিসিজেড (ITCZ) কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতীয় মৌসুমী বায়ু মূলত আইটিসিজেড-এর অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। এটি যখন উত্তর দিকে সরে আসে, তখনই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ভারতের দিকে ধেয়ে আসে। চলতি বর্ষায় এই জোনটি অনেকটা পূর্বে অবস্থান করায় মৌসুমী বায়ু ঠিকমতো এগোতে পারছিল না। তবে বঙ্গোপসাগর থেকে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সিস্টেমটি এখন দ্রুত অ্যাক্টিভ হচ্ছে।

কোথায় কোথায় বৃষ্টির সম্ভাবনা? আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এই সিস্টেমটি ভারতীয় উপমহাদেশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মৌসুমী অক্ষরেখা সক্রিয় হয়ে উঠলে বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের মতো বৃষ্টিপাত ঘাটতিতে থাকা রাজ্যগুলিতে বর্ষণ শুরু হতে পারে।

সতর্কতার বার্তা: আইটিসিজেড-এর এই সিস্টেমটি যদি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়, তবে তা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে:

  • বন্যা সতর্কতা: ভারী বৃষ্টির ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • কৃষকদের প্রস্তুতি: ফসল রক্ষার জন্য কৃষকদের আগে থেকেই সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ: গত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আইটিসিজেড-এর আচরণ আরও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে একই সঙ্গে খরা ও বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা এই গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন, কারণ এই সিস্টেমের ওপর কেবল ভারত নয়, সারা বিশ্বের আবহাওয়ার ভারসাম্য নির্ভরশীল।

আপাতত দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে জুলাইয়ের শেষের এই বৃষ্টির দিকে। পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।