দিল্লিতে ইভি নীতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ, অটোচালকদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার?

দিল্লি সরকারের নতুন বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) নীতি নিয়ে রাজধানীর পরিবহন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। ‘দিল্লি এনসিআর ট্রান্সপোর্ট একতা মঞ্চ’-এর নেতৃত্বে পরিবহন ইউনিয়নগুলো সরকারের এই নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনাকে চিঠি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পরিকাঠামোর প্রস্তুতি ছাড়াই এই নীতি চাপিয়ে দেওয়া হলে লক্ষ লক্ষ অটোচালক এবং ছোট পরিবহন ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
সরকারের নতুন ইভি নীতি ও ইউনিয়নগুলোর আপত্তি
দিল্লি সরকারের নতুন নীতি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দিল্লিতে নিবন্ধিত সমস্ত নতুন অটোরিকশা বাধ্যতামূলকভাবে বৈদ্যুতিক হতে হবে। এরপর ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে সমস্ত নতুন দুচাকার যানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য দূষণ কমানো এবং ইভি প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো। কিন্তু ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই লক্ষ্য মহৎ হলেও বাস্তবায়নের পথ অত্যন্ত কঠিন।
পরিকাঠামোর অভাবই মূল বাধা
পরিবহন ইউনিয়নগুলোর মতে, রাজধানীতে ইভি চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। ব্যাটারি অদলবদল (Battery Swapping) কেন্দ্রগুলোর অভাব এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বা স্ক্র্যাপিং সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় চালকরা আতঙ্কে রয়েছেন। দিল্লি এনসিআর ট্রান্সপোর্ট একতা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সুন্দর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বৈদ্যুতিক যানের জন্য প্রয়োজনীয় সাশ্রয়ী ঋণ বা সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা না থাকায় গরিব অটোচালকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আর্থিক বিপদের মুখে চালকরা
ইউনিয়নের আশঙ্কা, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই এই বাধ্যতামূলক নীতি কার্যকর করা হলে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছোট পরিবহন ব্যবসায়ীরা ধ্বংসের মুখে পড়বে। নতুন ইভি কিনতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করা অনেক চালকের পক্ষেই অসম্ভব। ফলে অটোর মালিকরা তাদের উপার্জনের পথ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
সরকারের কাছে দাবি
পরিবহন ইউনিয়নগুলি স্পষ্ট করেছে যে, তারা আধুনিক প্রযুক্তি বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিরোধী নয়। তবে তাদের দাবি, কোনো নীতি চাপিয়ে দেওয়ার আগে সরকারের উচিত পরিবহন ইউনিয়ন ও চালক সংগঠনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা। সরকারের কাছে তাদের মূল আর্জি হলো—চার্জিং পরিকাঠামো উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ এবং ব্যাটারি অদলবদল কেন্দ্র তৈরির মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করার পরই যেন এই নীতি কার্যকর করা হয়।
পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি ছাড়া ইভি নীতি বাস্তবায়ন রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলবস্থা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়, লেফট্যানেন্ট গভর্নর বা দিল্লি সরকার চালকদের এই দাবির প্রেক্ষিতে তাদের সিদ্ধান্তে কোনো নমনীয়তা প্রদর্শন করে কি না।