তৃণমূলের নেতাকে দলে নিলেই কি হারাবে বিজেপির আদর্শ? দলের অন্দরেই ক্ষোভের আগুন!

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন প্রাক্তন সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বড়াইককে নিয়ে বিজেপির অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূলের এই তিন হেভিওয়েট নেতাকে গেরুয়া শিবিরে জায়গা দেওয়ায় দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির কি নিজস্ব কোনো যোগ্য, শিক্ষিত বা আদর্শবান নেতৃত্ব নেই? কেন দলের ঘরের লোকেদের বঞ্চিত করে অন্য দলের নেতাদের রাজ্যসভার সাংসদ করার প্রয়োজন পড়ছে?
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই সম্প্রতি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সহাবস্থানের প্রশ্নে অনড় অবস্থান নিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা। শনিবার বাঁকুড়া সংখ্যালঘু ভবনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘১৬ তম অর্থ কমিশনের পরিকল্পনা’ সংক্রান্ত একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং জেলার ১২ জন বিধায়কসহ প্রতিটি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণ রক্ষা করে নীলাদ্রি শেখর দানা সেই সভায় উপস্থিত হলেও, আচমকাই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং তৃণমূল নেতাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নীলাদ্রি শেখর দানা সরাসরি বলেন, “যারা দুদিন আগেও আমাদের কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করেছে, সেই সমস্ত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসে চা খাওয়ার মতো মানুষ আমি নই।” তিনি আরও যোগ করেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যারা অত্যাচারিত হয়েছেন, তাদের সামনে দাঁড়িয়ে নীতি বা আদর্শের কথা বলা খুব সহজ। কিন্তু সেই আদর্শ মেনে চলা বা কাজ করে দেখানো অনেক কঠিন।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কের এই ক্ষোভ নিছক কোনো ব্যক্তিগত অভিমানে আটকে নেই, বরং এটি বিজেপির রাজ্য স্তরের বর্তমান কৌশলের প্রতি তৃণমূল থেকে আসা পুরনো কর্মীদের দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদদের দলে টেনে আনার যে রণকৌশল বিজেপি গ্রহণ করেছে, তা নিচুতলার কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।
বিজেপির অন্দরের এই বিভাজন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিধায়ক পর্যায়ের নেতাদের এই সরব হওয়া দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি তৃণমূলকে ভাঙার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে, অন্যদিকে দলের পুরনো এবং লড়াকু কর্মীদের এই বিদ্রোহ আগামী দিনে শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।