কালীঘাট তৃণমূলের জোড়া ধাক্কা! হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেয়ে থমকে গেল দলীয় তহবিল মামলা, এক নজরে সব আপডেট

সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধরনের আইনি হোঁচট খেল কালীঘাট তৃণমূল। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ঘটনায় ইডির পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আবেদন জানানো হয়েছিল, তা এদিন স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে যে, তদন্তকারী সংস্থার চলমান কাজের মধ্যে এই মুহূর্তে আদালত কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। এর ফলে রাজ্যের শাসকদলের আর্থিক লেনদেন ও তহবিল সংক্রান্ত আইনি লড়াই আরও জটিল আকার ধারণ করল।
মূলত, দলের তহবিল থেকে বেআইনি ও অস্বচ্ছ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরানোর গুরুতর অভিযোগে পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যৌথভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। এই ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে তিনটি প্রধান অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের অর্থ গচ্ছিত ছিল। এই আর্থিক অচলাবস্থার বিরুদ্ধে এর আগে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিচারপতি ভট্টাচার্য সাময়িকভাবে ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের আংশিক অনুমতি দিয়েছিলেন এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখার জন্য একজন বিশেষ বা স্পেশাল অফিসারও নিয়োগ করেছিলেন।
কিন্তু পরবর্তীতে ইডির পক্ষ থেকে নতুন করে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আরও বেশ কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলে আইনি বিতর্ক চরমে ওঠে। কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে জোরালো প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে, আগের আদালতের পর্যবেক্ষণের পরেও কীভাবে ইডি ইতর বিশেষ করে নতুন অ্যাকাউন্টগুলিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। এই মর্মে পরবর্তীতে মামলাটি স্থানান্তরিত হয় বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে। গত সপ্তাহেই এই মামলার দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব সম্পন্ন হয়।
আজ সোমবার সেই বহুচর্চিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইডি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে একটি দুর্নীতির মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই মুহূর্তে ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলির ওপর আদালত কোনো ধরনের স্থগিতাদেশ বা হস্তক্ষেপ করবে না। আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের আইনি লড়াইয়ে সাময়িকভাবে বড় কোনো স্বস্তি মিলল না। রাজনৈতিক মহলের মতে, ৪৪০ কোটি টাকার এই অ্যাকাউন্ট জট এবং আদালতের এই নির্দেশ রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।