“আমি আমার বাবাকে মৃত্যুর পরিকল্পনা করতে সাহায্য করেছিলাম!” ‘লক আপ ২’-এ রাম কাপুরের এই বিস্ফোরক ও মর্মান্তিক মন্তব্যে কেঁদে ভাসল পুরো ঘর!

জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ সিজন ২’-এর ঘর যেন এক গভীর মানসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। শোয়ে অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অভিনেতা রাম কাপুর এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ব্যক্তিগত গোপন কথা প্রকাশ করেছেন, যা শুনে পুরো ঘর তো বটেই, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন খোদ দর্শকরাও। ক্যানসারে আক্রান্ত নিজের বাবার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করা থেকে শুরু করে শৈশবের ভয়ানক যৌন হয়রানির স্মৃতি—সবকিছুই ক্যামেরার সামনে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা। তাঁর এই সুগভীর বেদনা ও সাহসিকতার স্বীকারোক্তি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

শোয়ের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্বে কথা বলতে গিয়ে রাম কাপুর তাঁর বাবার জীবনের শেষ দিনগুলির কথা স্মরণ করেন। আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি জানান যে, তাঁর বাবা একসময় অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে মারাত্মকভাবে ভুগেছিলেন। পরবর্তীতে কোভিড চলাকালীন ৭৩ বছর বয়সে সেই মারণ রোগ তাঁর শরীরে আবারও ফিরে আসে। সেই কঠিন সময়ে তাঁর বাবা আর চিকিৎসা করাতে চাননি। রাম বলেন, “বাবা গৌতমীকে ফোন করে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। ফোনে আমরা সবকিছু নিয়ে আলোচনা করি এবং তিনি মূলত সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আর এই রোগের বিরুদ্ধে লঙ্কার লড়াই চালিয়ে যেতে চান না। তিনি চলে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু একা যেতে ভীষণ ভয় পেতেন। তিনি তখনও চাননি যে অন্য কেউ বিষয়টি জানুক, কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন তাঁর পাশে থাকি। তাই তিনি সরাসরি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুমি কি আমাকে মরতে সাহায্য করতে পারবে?’ তিনি আমাকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলেছিলেন যেখানে আমার কাছে আর কোনো বিকল্প খোলা ছিল না।”

অভিনেতা আরও জানান যে, যখন তাঁর বাবাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল, তখন তিনি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর পাশ থেকে সরে যাননি। রামের কথায়, “কেউ জানত না যে তখন তাঁর কোনো চিকিৎসাও চলছিল না। তিনি শুধু চেয়েছিলেন আমি যেন তাঁর হাত ধরে তাঁকে শান্তিতে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে সাহায্য করি। আমি তাঁকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি তা করব। তিনি একা থাকতে ভয় পেতেন, কিন্তু মৃত্যুকে ভয় পেতেন না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে গিয়েছিলেন যে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যেন কেউ না কাঁদে।” তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি। রাম বলেন, তাঁর বোন এবং মা এই ঘটনার পর থেকে এখনও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন না। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও সেই স্মৃতি এখনও তাঁর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে রেখেছে।

পারিবারিক এই শোকাবহ ঘটনার পাশাপাশি রাম কাপুর আরও একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক অতীতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন দর্শকদের। শৈশবের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি জানান, বোর্ডিং স্কুলে পড়ার সময় তিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন, যখন তাঁর বয়স মাত্র ১৩ বছর, সেই সময় রামের হোস্টেলের বিছানায় এমন এক ঘটনা ঘটেছিল যা তাঁর মানসিক শান্তি চিরতরে কেড়ে নিয়েছিল। তিনি জানান, রাতের বেলা যখন সবাই মজা করত, তখন দশম শ্রেণির এক ছাত্র তাঁর বিছানায় এসে কম্বলের নিচে তাঁকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করে। সেই সময় চারপাশে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু উপস্থিত থাকায় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে তিনি চিৎকার করবেন নাকি চুপ থাকবেন। তবে কিছুক্ষণ সহ্য করার পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় সেই ছাত্রকে জানিয়ে দেন যে তাঁর এই আচরণ ভালো লাগছে না। এরপর সেই ছাত্র সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে সরে যায়। রাম কাপুরের এই দুটি জীবন্ত ও হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তি বর্তমানে বিনোদন দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।